নতুন রূপে সেজেছে বসন্তের প্রকৃতি। শীতের জরাজীর্ণতা ঝেড়ে ফেলে নির্জীব, নিষ্প্রাণ প্রকৃতি সেজেছে বর্ণিল সাজে। গাছে গাছে ছেয়ে গেছে সবুজ কচি পাতা। শিমুল, পলাশসহ নানা ফুলের রঙের উৎসব। শীতের জড়তা কাটিয়ে রঙিন প্রকৃতি আর ঝিরিঝিরি বাতাসে ভেসে বেড়ানো ফুলের সুবাস বসন্তের বার্তা দিলেও জেঁকে বসেছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতার আহ্বান প্রকৃতিপ্রেমীদের।
বসন্তের প্রারম্ভে আম, জাম, লিচুসহ বিভিন্ন ফলের গাছে এসেছে মুকুল। উপযুক্ত আবহাওয়া পেয়ে চাষের ফুলও ফুটেছে অন্যান্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া, রঙিন প্রকৃতি আর ঝিরিঝিরি বাতাসে ছড়ানো ফুলের মিষ্টি গন্ধে মাতোয়ারা মন।
প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমের মুকুল বের হইছে, কাঞ্চন ফুল, বিভিন্ন ফুল ফুটেছে। বসন্ত ঘিরে আসলে মানুষের মন সবসময় ফুরফুরে থাকে।’
বসন্ত এলেই বাড়ে পাখপাখালির বিচরণও। নজরে আসে নানা জাতের পাখি। তাদের কলকাকলি কানে এলেও সহজে দেখা মেলে না বসন্তের দূত কোকিলের।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আগেই আমরা বুঝতে পারতাম, বসন্ত যখন আসছে বা আসি আসি করছে, ওই সময় থেকেই কোকিল ডাকতো আরকি। এখন সেটা একদমই দেখা যায় না।
অন্য একজন বলেন, ‘কোকিল খুবই নিভৃতচারী পাখি, শব্দ পছন্দ করে না। শহরের ব্যস্ত কোলাহল এবং সব জায়গায় এই যে যন্ত্র, এর ফলে কোকিল কমে গিয়েছে।’
ঋতুচক্রের হিসেব অনুযায়ী প্রকৃতিতে বসন্তকাল এলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সময়মতো ঋতু পরিবর্তন হচ্ছে না। প্রকৃতি বসন্তের রূপ ধারণ করলেও এখনও অনুপস্থিত ঋতুর অন্যান্য বৈশিষ্ট্য।