প্রকাশ: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:২৮ পিএম (ভিজিট : ১৬৬)

X
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামে ভোটে যেতে নিষেধ ও পরবর্তী সময়ে হুমকি-ধমকির অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন সনাতনী সম্প্রদায়ের নারীরা।
জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শনিবার সকাল ১১টা থেকে উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রায় তিন শতাধিক নারী অংশ নেন।
চন্ডিপুর গ্রামের নারী নেত্রী প্রতিমা রানী হালদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন হেনা রানী মণ্ডল, সুশীলা রানী মণ্ডল, সুমিত্রা রানী মণ্ডল, সুধা রানী মণ্ডল, পারুল মণ্ডলসহ আরও অনেকে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নারীরা অভিযোগ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের দুই দিন আগে কয়েকজন বিএনপি নেতা তাদের ভোটকেন্দ্রে না যেতে বলেন। পৌর পূজা উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা পরিতোষ মণ্ডলসহ কয়েকজন স্থানীয় নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তির মাধ্যমে তাদের কেন্দ্রে না যাওয়ার পাশাপাশি ‘ধানের শীষে’ ভোট না দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে তারা দাবি করেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া শুরু হয় বলে অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি থানায় জানিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে জানান তারা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিতোষ মণ্ডলের বসতভিটা দখলের চেষ্টা চলছে। অভিযুক্তদের নির্দেশে ফজলুল হক, লিয়াকত আলী, শোকরসহ ১২–১৪ জন তরুণ নিয়মিত এলাকায় গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে তারা জীবনহানির আশঙ্কায় রয়েছেন বলে মানববন্ধনে জানানো হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা প্রদান এবং পরবর্তী হুমকির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একইসঙ্গে তারা পূর্বপুরুষের ভিটেমাটিতে নির্বিঘ্নে বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে লিয়াকত আলী বলেন, তারা কোনো বিএনপি নেতার হয়ে কাজ করছেন না। সংশ্লিষ্ট নেতারা তাদের আত্মীয় হওয়ায় যোগাযোগ রয়েছে, তবে রাজনৈতিকভাবে কাজ করার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে পরিতোষ মণ্ডলের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে পূর্ব বিরোধ রয়েছে বলে স্বীকার করেন।