ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৪৯ জন আহত হয়েছে।
আজ সোমবার (২ মার্চ) লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর আল জাজিরা’র।
আহতদের উদ্ধার এবং নিহতদের দাফনের কাজ এখনও অনেক এলাকায় চলছে। হামলার পর লেবানন ও ইসরায়েলের সীমান্তে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা হুমকি ও সীমান্ত উত্তেজনার কারণে পুরো অঞ্চল এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এদিকে, ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিঞ্জানি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার যে গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল, তা সরাসরি নাকচ করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরান এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সংলাপে বসবে না। আমাদের সামরিক বাহিনী এই যুদ্ধ শুরু করেনি; কেবল আত্মরক্ষায় পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র আল জাজিরাকে জানান, তেহরান ইতিমধ্যে ২০২৫ সালে দু’বার কূটনৈতিক পথ অনুসরণের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার কারণে সেই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে, নতুন আলোচনার প্রস্তুতি চলাকালীন হামলা সংঘটিত হওয়ায় ইরান বিশ্বাস করছে যে প্রতিপক্ষরা শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় না।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গভীর আস্থার সংকট পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদিও সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে, তবু মাঠে কোনো কার্যকর যুদ্ধবিরতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
লেবানন ও কুয়েতের আকাশসীমায় সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন একাধিক ঝুঁকিতে রয়েছে এবং কোনোরূপ কূটনৈতিক সমাধান ব্যর্থ হলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।