
X
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। দিন দিন মশার প্রকোপ বাড়তে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর ফলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, মশার অস্বাভাবিক বিস্তারের অন্যতম প্রধান কারণ যত্রতত্র জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও অপরিষ্কার পরিবেশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে আবাসিক হল ও এর আশপাশে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না করায় সেখানে মশার নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। পচনশীল আবর্জনা, অপরিষ্কার ড্রেন ও জমে থাকা পানির কারণে পুরো ক্যাম্পাসেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিকেল নামলেই আবাসিক হল, ডরমেটরি, দোকানপাট ও রাস্তাঘাটে মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার নেয়। পবিত্র রমজান মাসে অনেক শিক্ষার্থী খোলা জায়গায় বসে ইফতার করলেও মশার অতিরিক্ত উৎপাতের কারণে কয়েল জ্বালিয়েও স্বস্তি মিলছে না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর তথ্যমতে, মশার কামড় কেবল সাময়িক অস্বস্তির কারণ নয়; বরং এটি নানা মারাত্মক রোগের বাহক। এডিস প্রজাতির মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ছড়ায়, যা উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা ও অস্থিসন্ধিতে প্রচণ্ড ব্যথার সৃষ্টি করে। গুরুতর ক্ষেত্রে ডেঙ্গু রক্তক্ষরণজনিত জটিলতায় রূপ নিতে পারে। অন্যদিকে অ্যানোফিলিস মশাবাহিত ম্যালেরিয়া চিকিৎসা না নিলে প্রাণঘাতী হতে পারে।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে মশার উপদ্রব চলমান থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বিদ্রোহী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী অংকন দেবনাথ বলেন, “রিডিং রুমে পড়তে বসলে মশার উৎপাতের কারণে নিজের যেমন সমস্যা হয়, তেমনি অন্যদের মনোযোগও ব্যাহত হয়। সম্প্রতি কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় বাইরে ইফতার বা আড্ডার সময়। এমনকি সেন্ট্রাল ইফতারের সময়েও আলাদা করে কয়েল জ্বালাতে হয়েছে।”
দোলনচাঁপা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, “মেয়েদের হলে মশার উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বেসিন, ওয়াশরুম ও কক্ষগুলোতে মশার আধিক্য রয়েছে। সন্ধ্যার পর পড়াশোনা বা বিশ্রাম নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে, যা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।”
অগ্নিবীণা হলের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “মশার উপদ্রব এখন সারা বছরব্যাপী একটি স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ডায়নিং হল, রিডিং রুম, নামাজঘর—কোথাও স্বস্তি নেই। ক্যাম্পাসের নির্মাণাধীন ভবন ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি মশার প্রজননের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। ড্রেন ও নালা নিয়মিত পরিষ্কার না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে।”
শিউলি মালা হলের শিক্ষার্থী শিলা জাহান বলেন, “মশার অত্যাচারে রাতে ঘুমানো তো দূরের কথা, হলে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। মশার কামড়ে জ্বর, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। আমরা কোনো অযৌক্তিক দাবি করছি না—শুধু একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকার অধিকার চাই। প্রশাসনের কাছে আমাদের জোর দাবি, দ্রুত নিয়মিত ফগিং ও কার্যকর স্প্রে কার্যক্রম চালু করা হোক।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “ক্যাম্পাসে মশার উপদ্রবের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। দ্রুত মশা নিধনের জন্য সংশ্লিষ্ট পৌরসভা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবেও বিষয়টি তদারকি করব। আশা করছি, খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।”