
X
আড়াইহাজার পৌরবাজারে যানজট
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার পৌরবাজারে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানজট এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। পৌরসভার ডাকবাংলো রোড থেকে কলেজ গেইট এলাকা পর্যন্ত, থানার মোড় থেকে জাঙ্গালিয়া সড়কের ঢাকা ব্যাংক পর্যন্ত রাস্তায় সারাক্ষণই যানজট লেগে থাকে।
বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ যানজট অব্যবস্থাপনা ও তদারকির ঘাটতির কারণে হচ্ছে। ফুটপাত ও রাস্তার দুই পাশে বসেছে ভ্রাম্যমাণ ও অস্থায়ী দোকান। সড়ক চলে গেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও চার্জার রিকশার দখলে। অতিরিক্ত অটোরিকশা চলাচল করায় এবং এগুলোর ওপর কারও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বাজারে প্রতিদিন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পৌরসভা বাজারে অবস্থান করে দেখা যায়, পুরো সড়ক রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ঠাসা। যত্র তত্র অটো রিকশা পার্কিং ও টার্ন নেয়াসহ থেমে থেমে অটোরিকশার জটলা তৈরি হচ্ছে। যাত্রী দেখলেই অটোরিকশাগুলো যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে পড়ছে। এতে মুহূর্তেই অটো ও চার্জার রিকশার দীর্ঘ সারি হয়ে যায়।
উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে সড়কের ওপর সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া পুরাতন থানার মোড়ে সড়কের ওপর সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ফলপট্টি এলাকায় সড়কের ওপর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এতে রাস্তা সংকুচিত হয়ে গেছে। ডাকবাংলো থেকে শহীদ মিনার এলাকা পর্যন্ত পাঁচ মিনিটের হাঁটার পথ, অটোরিকশায় গেলে লাগছে আধা ঘণ্টা।
অটোরিকশাচালক মহসিন মিয়া বলেন, এতদিন বিধিনিষেধ গেল। এখন আবার রাস্তায় জ্যামে আটকে থাকতে হয়। এ জ্যামের কারণে আয়রোজগারও কমে গেছে।
তা ছাড়া বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ দোকানের কারণে ফুটপাত এখন দখলদারদের হাতে। পথচারীদের হাঁটার কোনো সুযোগ নেই। আর এসব ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় বেশির ভাগ পথচারীই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যায়, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে যানজটেরও সৃষ্টি হয়। ফুটপাতের ফল ব্যবসায়ী মো. অহিদুল্লাহ, আল আমিন ও আলমগীর হোসেন বলেন, মালিক যেভাবে নির্দেশ দেয় সেভাবেই আমাদের ব্যবসা করতে হয়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকান বসালে দিনে ১০০ টাকা আর দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত ব্যবসা করলে ৫০ টাকা করে দিতে হয়। তবে এই টাকা কাকে দেন, তা বলতে রাজি হননি তারা।
আড়াইহাজার পপুলার হাসপাতালের পরিচালক শহীদুল্লাহ মোল্লা বলেন, পৌরবাজারের যানজটের কারণে রোগীদের নিয়ে স্বজনরা বাজারে প্রবেশ করতে পারেন না। যানজটের কারণে জরুরি রোগী এই হাসপাতালে আসে না। বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ মিয়া, রতন মিয়া, আবু দায়েন, মোস্তাফিজুর রহমানসহ কয়েকজন জানান, তারা কয়েক লাখ টাকা অগ্রিম এবং হাজার হাজার টাকায় দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করেন। কিন্তু ফুটপাতের ব্যবসায়ী ও ইজিবাইক চালকদের কারণে বাইরে থেকে আনা পণ্যের গাড়ি নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে রাখতে পারেন না।
পৌর বাজারের পিংকি মার্কেট, দুবাই প্লাজা, সোয়াদ আলী মার্কেট, আব্বাস আলী মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, খান মার্কেট, আড়াইহাজার সুপার মার্কেটসহ অন্যান্য মার্কেট ও দোকানপাটে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই। এতে ক্রেতারা ও দোকানীরা মার্কেটের সামনের রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখেন।
পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী সাফায়েত সাদী বলেন, ভবন নির্মাণে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখার জন্য পৌরসভা থেকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু ভবন মালিকরা সে ব্যবস্থা রাখেননি।
আড়াইহাজার থানার ওসি আলাউদ্দিন বলেন, অটোরিকশা চালকদের ডেকে সড়কের ওপর যাতে কোনো রিকশা না রাখেন, সে ব্যবস্থা করা হবে। ইউএনও আসাদুর রহমান জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুটপাত দখলদার হকার ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হয়েছে। কেউ পুনরায় দখল করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, আড়াইহাজার বাজারের যানজট সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য প্রশাসন ও সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সুন্দর একটি সমাধানে পৌঁছানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।