প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৯ পিএম আপডেট: ০৪.০৩.২০২৬ ৭:৩৫ পিএম (ভিজিট : ৩৬০)

X
আসমা সাদিয়া রুনা
নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতে আহত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা মারা গেছেন।
আজ বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বেতন নিয়ে ঝামেলা ও অন্য বিভাগে বদলির জেরে ইবির সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়ার গলায় ছুরি চালিয়ে দেন ফজলুর রহমান নামে এক কর্মচারী। পরে নিজের গলায়ও ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।
খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ও ইবি থানার পুলিশ গিয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। তাদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নেওয়ার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া মারা যান।
কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. হোসাইন ইমাম তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভবনের নিচে কর্তব্যরত এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চার জন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরোজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে দিচ্ছেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।
সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারেননি। উনি প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মচারী, উনি এখান থেকে চলে যাবেন, উনি সব কিছুই জানেন এই বিভাগের।
তিনি বলেন, ওনাকে পলিটিক্যাল সায়েন্সে বদলি করা হয়। আর উনি এখন এমন সাংঘাতিক একটা ডিসিশন নেবে আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। ডিপার্টমেন্টে হাবিব স্যার ছিল। উনি ৩০ মিনিট আগে ডরমেটরিতে চলে যান। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনও কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী ঢুকে রুম লক করে ম্যাডামকে ছুরি মেরে খুন করেন।