
X
হাফেজদের সম্মাননা ও পাগড়ি প্রদান
বৃহস্পতিবার বিকেলে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের করিমপুর রোডে অবস্থিত মরহুমা শবতেরা বিবি হাফেজিয়া মাদরাসার উদ্যোগে হাফেজদের সম্মাননা ও পাগড়ী প্রদান অনুষ্ঠান ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মাদরাসার দুইজন কৃতি শিক্ষার্থী পবিত্র কোরআনের হিফয সম্পন্ন করে হাফেজে কোরআনের গৌরব অর্জন করেন। এ উপলক্ষে নবীন হাফেজদের মাথায় পাগড়ি পরিয়ে সম্মানিত করা হয় এবং তাদের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক, পাগড়ী ও নগদ অর্থ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
হাফেজ হাবিবুর রহমান বলেন, তিনি মাত্র দুই বছরের মধ্যে এ মাদরাসা থেকে কোরআনের হিফয সম্পন্ন করেছেন। তাঁর মতে, মাদরাসার শিক্ষার মান ও সুন্দর পরিবেশ তাকে দ্রুত হাফেজ হতে সহযোগিতা করেছে। তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বলেন, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও পরিবেশের সহায়তায় তিনি এই সাফল্য অর্জন করতে পেরেছেন। সম্মাননা হিসেবে পাগড়ি ও নগদ অর্থ পুরস্কার পেয়ে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন।
অপর হাফেজ মেহেদী হাসনাত শাহান বলেন, তিনি তিন বছরের মধ্যে কোরআনের হিফয সম্পন্ন করেছেন। মাদরাসার পরিবেশ ও শিক্ষকদের আন্তরিকতা তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। শিক্ষকরা স্নেহ ও যত্নের সঙ্গে পাঠদান করায় তার পক্ষে হিফয সম্পন্ন করা সহজ হয়েছে। এ অর্জনে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং সম্মাননা হিসেবে পাগড়ি ও নগদ অর্থ পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথি মাওলানা নজরুল ইসলাম বলেন, পবিত্র রমজান মাসে মহান আল্লাহ তাআলা কোরআন নাযিল করেছেন। এ মাস কোরআন শিক্ষা ও তেলাওয়াতের সর্বোত্তম সময়। তিনি নবীন হাফেজদের উদ্দেশে দোয়া করে বলেন, আল্লাহ তাআলা যেন তাদের এই মহৎ অর্জন কবুল করেন এবং তারা যেন কোরআনের আলো সমাজে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হন।
বিশেষ অতিথি ৩নং মুন্সিবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাহেল হোসেন বলেন, এমন একটি পবিত্র অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিনি প্রতিটি মুসলিম পরিবারকে ধর্মীয় শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান এবং অন্তত একজন করে হাফেজ গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও মাদরাসার সভাপতি শামীম বক্স বলেন, এই মাদরাসা থেকে প্রতি বছর আলহামদুলিল্লাহ ধারাবাহিকভাবে হাফেজ কোরআনের সনদ অর্জন করছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর এই মাদরাসা থেকে চারজন শিক্ষার্থী সনদ নিয়ে হাফেজ হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছর আরও দুইজন শিক্ষার্থী হিফয সম্পন্ন করে হাফেজের গৌরব অর্জন করেছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং সুন্দর শিক্ষার পরিবেশের কারণেই এ সাফল্য সম্ভব হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে আরও অনেক হাফেজ এই প্রতিষ্ঠান থেকে বের হবে এমন আশাবাদ তিনি ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবক ও শিক্ষকমণ্ডলী উপস্থিত ছিলেন। ইফতার মাহফিল ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। বিশেষ মুনাজাতে দেশ, জাতি, মাদরাসার উন্নয়ন ও নবীন হাফেজদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে দোয়া করা হয়।
ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারে এ ধরনের উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।