প্রকাশ: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ১:৪৫ পিএম (ভিজিট : ৫৮)

X
মোটা অংকের বেতনের লোভ দেখিয়ে মাত্র ২ লাখ টাকার বিনিময়ে গ্রিসে নিয়ে চাকরি দেওয়ার নাম করে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের পারাসিদা গ্রামের বুল্লার পুত্র আলমগীরের বিরুদ্ধে ৯ বন্ধুর সাথে প্রতারণার মাধ্যমে ৬০ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা এখন অসহায় হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীদের একজন ঈশ্বরদী উপজেলা দাশুড়িয়া এলাকার মুজাহিদুল ইসলাম ভুক্তভোগীদের সাথে নিয়ে সম্প্রতি সাংবাদিক সম্মেলন করে হৃদয়বিদার কাহিনীর বর্ণনা দেন।
মুজাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন প্রথমে ২ লাখ টাকার কথা বলে আমাদেরকে বিপদে ফেলে নানা কৌশল ও ছলচাতুরির মাধ্যমে জনপ্রতি ৭ লাখ করে টাকা আদায় করে। তিনি বলেন এক সময় আলমগীরের সাথে দুবাই একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে পরিচয় ঘটে। এরপর দুবাই থেকে চলে আসার আলমগীর গ্রিস থেকে ফোন করে আমাদেরকে বলে আপনারা গ্রিসে আসেন এখানে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা বেতন, আসা সহজ কোনো সমস্যা নাই, খরচ ২ লাখ টাকা। আমরা আলমগীরের কথায় বিশ্বাস করে ৯ জন রাজি হয়ে রাজি হয়ে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে গ্রিসে যাওয়ার উদ্যোগ নেই।
আলমগীর আমাদেরকে প্রথমে সারজায় যেতে বলে, আমরা সারজাই গেলে সেখান থেকে ওমান যেতে বলে এবং ওমান থেকে আবার মাসকাট যেতে বলেন এই আমরা অর্ধাহারে অনাহারে পাহাড়, জঙ্গল, মাঠঘাট পাড়ি দিয়ে মাছসাট গেলে আমাদেরকে আটক করে স্পিডবোডে তুলে দেয় মাছ। সাগরের সেই বিভৎস্য ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মুজাহিদুল ইসলাম কান্নায় ভেঙে পড়েন। ভাগ্যক্রমে আমরা মাসকাট পৌঁছাই। এখান থেকে আমাদের ৯ জনকে তিন ভাগ করে সেভ হোমে নিয়ে আটকিয়ে নতুন করে আরও ৫ লাখ করে মেট ৭ লাখ টাকা দাবি করতে থাকে। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের জীবন নাশের সঙ্কা দেখা দেয়। আলমগীরের চাপে আমাদের ৯ জনের পরিবার থেকে মোট ৭ লাখ টাকা করে চাপ দেয়।
এখানে আমরা নিরাপদ ছিলাম না। আলমগীর আমাদেরকে ইরানের তেহরানে নিয়ে আবারও ৭ লাখ করে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে, এ সময় আমাদের ওপর টাকার জন্য চরম নির্যাতন ও মারধর চলতে থাকে। নিরুপায় হয়ে জীবন বাঁচাতে আমরা আমাদের পরিবারের সহায়-সম্পদ বিক্রি করে টাকা দিতে বাধ্য হই এবং আমাদের প্রত্যেকের পরিবার থেকে আলমগীরের প্রতিনিধিকে টাকা দিয়ে দেয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ আলমগীর আওয়ামী লীগ নেতা থাকায় আমরা কারো কাছে কোন সু-ব্যবস্থা পাইনি। এই অসহায় ৯ পরিবার এখন সর্বস্ব খুইয়ে প্রতারক আলমগীরের শাস্তি এবং তাদের টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য সকলের কাছে আবেদন জানাচ্ছে।