ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া এলাকায় সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি মাত্র ১০ মাসে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ হয়েছেন ১৪ বছরের কিশোর মো. রাশেদুল ইসলাম।
শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের ইয়াসিন জিলাদার বাড়ি নুরানী হাফিজিয়া মাদরাসায় কাঞ্চন ফাতেমা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার মাথায় পাগড়ি পরিয়ে দেওয়া হয়।
মো. রাশেদুল ইসলাম ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামের বাসিন্দা মো. রাসেল ও লাইজু বেগম দম্পতির বড় ছেলে। তিনি বর্তমানে ভোলা দারুল হাদীস কামিল মাদরাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা স্থানীয় একটি মিষ্টির দোকানের কারিগর।
হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক, বাবা-মায়ের সহযোগিতা এবং আল্লাহর রহমতে মাত্র ১০ মাসে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করতে পেরেছি। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি দ্বীনি শিক্ষাও অর্জন করছি। ভবিষ্যতে একজন মাওলানা হয়ে ইসলামের খেদমতে কাজ করতে চাই।
এ অনুষ্ঠানে মাদরাসার আরও তিনজন শিক্ষার্থীকে হাফেজ হিসেবে পাগড়ি প্রদান করা হয়। তারা হলেন- বোরহানউদ্দিন উপজেলার মনিরাম গ্রামের বাসিন্দা সফিজুল ইসলাম ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতির বড় ছেলে মো. আশরাফুল ইসলাম (১৪), সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মাওলানা মো. গোলাম সরোয়ার ও বিবি ফাতেমা দম্পতির ছেলে হাফেজ মো. সাইদুল ইসলাম জাকওয়ান (১৫) এবং রাজাপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আবুল কালাম ও বিবি ফাতেমা দম্পতির ছেলে হাফেজ মো. আব্দুল্লাহ (১৪)। তারা আড়াই থেকে তিন বছরে কোরআন মুখস্থ সম্পন্ন করেছেন।
অনুষ্ঠানে মাদরাসার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বশির আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে হাফেজ ছাত্রদের মাথায় পাগড়ি ও ক্রেস্ট প্রদান করেন ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া দারুস সালাম মাদরাসার পরিচালক মাওলানা আমির হোসাইন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাদরাসার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নুরে আলম ফয়জুল্লাহ, পরিচালক সরোয়ার হোসেন, শিক্ষা সচিব হুমায়ূন কবির, কাঞ্চন ফাতেমা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সদস্য সুলতান মাহমুদ মনজিল, আশরাফুল হক সোহেল, সময় টিভির সাংবাদিক নাসির উদ্দিন লিটন, কালের কণ্ঠের সাংবাদিক ইকরামুল আলম, মুক্ত খবরের সাংবাদিক আহসানুল হক সাদ্দাম, পৌরসভার প্রকৌশলী জাকির হোসেন, ব্যবসায়ী মো. জামাল গোলদার, মাদরাসার ক্যাশিয়ার আহাম্মদ উল্লাহ আনোয়ার, মাকসুদুর রহমান, ব্যবসায়ী হাসনাইন আহমেদসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।