
X
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসকের আলোচনায় বিএনপি নেতা শাখাওয়াত জামাল দুলাল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের ৬ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছেন। সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে জেলা পরিষদেও নতুনভাবে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। এদিকে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে আলোচনায় রয়েছেন বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক প্রবীণ বিএনপি নেতা শাখাওয়াত জামাল দুলাল।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে দৌড়ে এগিয়ে থাকা শাখাওয়াত জামাল দুলালের বাড়ি বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের হাজীগাঁও গ্রামে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি অতিতে চট্টগ্রামে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে প্রথম সারির নেতা হিসেবে পরিচিত।
জানা যায়, শাখাওয়াত জামাল দুলাল ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি, ১৯৮৪ সালে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দুলালকে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে মনোনীত করার জোরালো দাবি জানিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন দলের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এছাড়া চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে দুলালকে প্রশাসক পদে মনোনীত করতে দাবি জানাচ্ছেন।
বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করেন, 'শাখাওয়াত জামাল দুলালকে এবার মূল্যায়ন না করলে সেটা তার প্রতি অবিচার হবে। তিনি চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনে একাধিকবার দলের মনোনয়ন চেয়েও মনোনয়ন বঞ্চিত হন। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ও ক্লিন ইমেজের কারণে তিনি সবার কাছে শ্রদ্ধেয়। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাঁশখালীতে জামায়াত বিজয়ী হওয়ায় দুলালকে জেলা পরিষদের দায়িত্ব দিলে বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ উপকৃত হবেন।
বাঁশখালী উপজেলা বিএনপি নেতা মনির উদ্দিন ময়ুর বলেন, 'বিএনপি নেতা দুলাল চট্টগ্রামে বিএনপি বানানোর কারিগর ছিলেন। চট্টগ্রামে এখন যারা বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন অনেকে দুলালের হাতে গড়া। দলের দুঃসময়ে অর্থ ও শ্রম দিয়ে দলকে টিকিয়ে রেখেছেন তিনি। অতীতে দল তাকে যথাযথ মুল্যায়ন না করলেও আমরা আশাবাদী এবার দলকে তাঁর অতীতের শ্রমের মূল্য দিবেন। তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসক হলে বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলায় উন্নয়নে গতি পাবে।'
বিএনপি নেতা আবু মুসা বলেন, 'দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শাখাওয়াত জামাল দুলাল দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য ছিলেন। দল যখন যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন সেটা মেনে নিয়ে দলের দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্লিন ইমেজের কারণে তিনি সবার কাছে প্রিয়পাত্র। চট্টগ্রামের অনেক বিএনপি নেতা তাঁর হাতে গড়া। আমরা পরীক্ষিত এই রাজনীতিবীদকে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে চাই। তিনি প্রশাসক পদে মনোনীত হলে ওনার অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তা দিয়ে দলের সুনাম বয়ে আনবে। একই সাথে বাঁশখালীসহ অবহেলিত দক্ষিণ চট্টগ্রামের উন্নয়নের অগ্রগতি হবে।'
জানতে চাইলে বিএনপি নেতা শাখাওয়াত জামাল দুলাল বলেন, 'জাতীয় নির্বাচনে আমি একাধিকবার মনোনয়ন বঞ্চিত হলেও কখনো দল ছেড়ে যায়নি৷ অর্থ-শ্রম দিয়ে দল ও নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছি। চট্টগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া নেতাদের অনেকে আমার হাতে গড়া কর্মী ছিল। আমি আশা করি দল আমাকে যথাযথ মূল্যায়ন করবেন। আমার অতীতের কর্মকাণ্ডের কারণে আমাকে এ পদটি দেওয়ার জন্য দলের কাছে জোর দাবি করছেন বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। আমাকে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের দায়িত্ব দিলে আমি চট্টগ্রামের অবহেলিত এলাকাগুলো নিয়ে কাজ করব।
উল্লেখ্য: গত ৫ আগস্টের আগে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন আওয়ামী লীগের এটিএম পেয়ারুল ইসলাম। পরে ৫ আগস্টের পরে পরিষদ বিলুপ্ত করা হলে পদ শূন্য হয়। বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো: মোতাহার হোসেন।