
X
রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের ওপর সশস্ত্র হামলা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজশাহী। হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা।
রোববার (৮ মার্চ) বেলা ১২টায় মহানগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে আয়োজিত মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মো. রহমত উল্লাহর সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন, প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমকে হত্যার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে মাইক্রোবাস ভাড়া করে হামলা চালানো হয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় থাকতে পারে না। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও দেশ টিভির প্রতিনিধি কাজী শাহেদ, সাবেক সভাপতি আবু কাওসার মাখন, সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, দৈনিক কালবেলার রাজশাহী ব্যুরো প্রধান আমজাদ হোসেন শিমুল, রিভারসিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রাব্বানী, রাজশাহী রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান টনি এবং দপ্তর সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন ও ফারুক আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ এবং সদস্য শাহিন সাগর। সংহতি প্রকাশ করে আরও বক্তব্য দেন রাজশাহী প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন বাবু, কার্যনির্বাহী সদস্য রাজিব আলী রাতুল, বৃহত্তর রাজশাহী বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ রানা, ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ শুভ ও মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা তারানা আক্তার জিনিয়া।
মানববন্ধনে রাজশাহী নিউ গভমেন্ট ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাব্বির আহমেদ অন্তর, আইএইচটি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আয়াতুল্লাহ কমেনি, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রতন আলী এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শান্ত ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, বরেন্দ্র প্রেসক্লাব পরিচালনার নামে কিছুদিন ধরে নুরে ইসলাম মিলন ও তার সহযোগীরা ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এর জের ধরে শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে একদল সন্ত্রাসী প্রেসক্লাবে হামলা চালায়।
হামলার সময় প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন পিস্তল বের করে সভাপতি রেজাউল করিমের মাথায় ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। একপর্যায়ে সুরুজ আলী নামের এক হামলাকারী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পেটে আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে প্রতিহত করেন। এতে তার উরুতে গুরুতর জখম হয় এবং পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার ক্ষতস্থানে ১৩টি সেলাই দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় নুরে ইসলাম মিলন, সুরুজ আলী, মিশাল, সাইদ আলী, ইব্রাহিম ও রেন্টুসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারীদের ফেলে যাওয়া একটি মাইক্রোবাস (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: কুমিল্লা-চ-৫১-০০২৮) জব্দ করেছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।