নিজের প্রথম স্বামীর সন্তানের টানে বাংলাদেশে এসেছিলেন ফাল্গুনী রায়। কিন্তু এরপর তার জীবনে নেমে আসে দুর্গতি। প্রথম স্বামী তাকে মারধর করে পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে ভারতে ফেরত যেতে বললে বাধ্য হয়ে সীমান্ত পারাপারে চেষ্টার সময় তাকে আটক করে বিজিবি। এরপর তিনি আট মাসের জন্য বাংলাদেশের কারাগারে বন্দি ছিলেন।
রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা বন্দরের আইসিপি সীমান্ত দিয়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফাল্গুনী রায়কে ভারতের হাতে হস্তান্তর করে বিজিবি। ফাল্গুনী রায় (২৮) ভারতের উত্তর ২৪ পরগুনার বনগা থানার সিংড়ী টেঙরা কলোনির বাসিন্দা। হস্তান্তরের সময় তার স্বামী ভারতীয় নাগরিক প্রসেনজিৎ উপস্থিত ছিলেন।
২০২৫ সালের জুনে ফাল্গুনী বৈধভাবে বাংলাদেশে আসেন। প্রথম স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি মারধরের শিকার হন ও বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানায় আশ্রয় নেন। সীমান্ত পেরোতে গেলে বিজিবির হাতে আটক হন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে মামলা দায়ের হয়। দুই মামলায় তিনি চার মাস পাঁচ দিন জেলে ছিলেন।
আইনি জটিলতার কারণে কারা মেয়াদ শেষ হলেও তিনি মোট ৮ মাস ১০ দিন কারাগারে ছিলেন। তারপর ভারতের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১০ জানুয়ারি ঝিনাইদহ থেকে চুয়াডাঙ্গা কারাগারে আনা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ভারতের দূতাবাস ছাড়পত্র দেয় এবং জানুয়ারির মধ্যভাগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যায়। ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের কারণে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘ আট মাসের জটিলতার পর রোববার (৮ মার্চ) সকাল ১০টায় দর্শনা বন্দরের আইসিপি সীমান্ত দিয়ে ফাল্গুনী রায়কে বিএসএফ-এর হাতে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় বিজিবি-বিএসএফ, কাস্টমস-ইমিগ্রেশন, থানা পুলিশ, এনজিও ও মানবাধিকার সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।