
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় গাবুরা ইউনিয়নে নারীদের জীবন প্রতিদিন লবণাক্ত পানির সঙ্গে সংগ্রামের মাধ্যমে কাটে। রান্না, গোসল বা জীবিকা নির্বাহ—সবক্ষেত্রেই নির্ভর করতে হয় নোনা পানির ওপর। এর ফলে প্রজনন স্বাস্থ্যঝুঁকি, চর্মরোগ ও অন্যান্য জটিলতা বেড়ে যাচ্ছে।

মুন্সিগঞ্জ এলাকার সোনামণি ও মরিয়ম খাতুনের মতো নারীও নোনা পানির সংস্পর্শে কাজ করার কারণে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। দৈনন্দিন জীবিকার তাগিদে নদীতে রেণু বা মাছ ধরতে নামা নারীরা নানা সংক্রমণ ও চর্মরোগে ভুগছেন। অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই জন্মনিয়ন্ত্রণ ইনজেকশন বা পিল ব্যবহার করছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে জরায়ু সমস্যার ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে।
দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং চিকিৎসার অভাবে গর্ভবতী নারীদের জন্য জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। পার্শ্বেমারী গ্রামের হালিমা খাতুন প্রসবকালে চিকিৎসা না পেয়ে মারা যান, সন্তানকে বাঁচানো হয়।
২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলার পর উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার মাত্রা বেড়ে যায়। নারীদের দৈনিক ৭–৮ ঘণ্টা লোনা পানিতে থাকার কারণে জরায়ু সংক্রমণ, টিউমার ও ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, গাবুরার কিছু এলাকায় প্রজনন হার মাত্র ০.৮৯ শতাংশে নেমে এসেছে।

উপকূলীয় এলাকায় তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও উন্নত চিকিৎসা সুবিধা নেই। জরুরি অবস্থায় নারীদের হাসপাতালে নিতে নদী ও ভাঙাচোরা রাস্তা পার করতে হয়। ডুমুরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি হেলেনা বিলকিস বলেন, “প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ জন রোগী আসেন, যার বড় অংশ নারী ও কিশোরী। কিন্তু দুর্গম যাতায়াত ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক রোগী হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান।”
সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আঃ সালাম জানিয়েছেন, গাবুরা ইউনিয়নে ১০ শয্যার একটি হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল স্থাপিত হলে নারী ও শিশুদের জন্য উন্নত চিকিৎসা, জরুরি সেবা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যপরামর্শ দেওয়া সম্ভব হবে। ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।