
X
সংগৃহীত ছবি
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুস সালাম ব্যাপারীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও বিদেশে সম্পদ কেনার অভিযোগ ওঠার পর পদত্যাগ করেছেন তিনি।
রোববার দুপুরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের দপ্তরে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে বলেছেন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, “ওয়াসার এমডির পদত্যাগপত্র দুপুরের পর পর মন্ত্রণালয়ে সচিব স্যারের দপ্তরে পেয়েছি। তবে তিনি নিজে এসে দিয়েছেন কি না, সেটা আমি বলতে পারবো না।”
ঢাকা ওয়াসার জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমরুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, “দুপুরে এমডি স্যার (আব্দুস সালাম ব্যাপারী) পদত্যাগ করেছেন, আমি খবর পেয়েছি বিকাল ৪টার দিকে।”
এদিন বিকালে তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছে সিআইডি।
গেল মঙ্গলবার দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় “কানাডার ‘বেগমপাড়ায়’ ঢাকা ওয়াসার এমডির স্ত্রীর নামে বাড়ি” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা সমালোচনা চলছিল।
তার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও নানা বিতর্ক আছে তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে উনাকে অনেকটা তড়িঘড়ি করে নিয়োগ দিয়েছে। সঠিক কোনো নিয়ম মেনে তিনি হননি।”
তৎকালীন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগের আগ মুহূর্তে ঢাকায় ওয়াসায় নতুন এমডি বসানোর গুঞ্জন ছিল।
গেল বছরের ১১ নভেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে আব্দুস সালামকে এমডি পদে দায়িত্ব দেওয়া। এর আগে ঢাকা ওয়াসার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
প্রাথমিক অনুসন্ধানের বরাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি বলেছে, আব্দুস সালাম ব্যাপারী ১৯৯১ সালে ঢাকা ওয়াসায় সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন।
পরবর্তীতে বিভিন্ন উৎস থেকে অর্জিত অর্থ অবৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে পাচার করে তিনি নিজ নামে, তার স্ত্রী এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়ার কথা বলছে সিআইডি।
সংস্থাটি বলেছে, ২০১৮ সালে আব্দুস সালাম নিজের নামে এবং তার স্ত্রী মাহবুবুন্নেছার নামে কানাডার টরন্টো শহরে একটি বাড়ি কিনেছেন। স্থানীয় ভূমি নিবন্ধন অফিস সূত্রে এ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৮ মার্চে কেনা কানাডার ওই বাড়িটির বর্তমান মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ কোটি টাকা। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও কানাডার টরন্টোতে তার পরিবারের নামে বাড়ি থাকার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আই অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে কার্যক্রম শুরুর কথা জানাল সিআইডি।