সেহরি খেতে আসা শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে পিটিয়ে ফেলে গেল থানায়

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানী

নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে মধ্যরাতে আটক করে কয়েক দফায় মারধরের অভিযোগ

2026-03-09T16:21:53+00:00
2026-03-09T16:21:53+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
সেহরি খেতে আসা শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে পিটিয়ে ফেলে গেল থানায়
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৪:২১ পিএম   (ভিজিট : ২৪০)
পাভেলকে কয়েক দফা পিটিয়ে থানায় ফেলে রাখার অভিযোগ
X

পাভেলকে কয়েক দফা পিটিয়ে থানায় ফেলে রাখার অভিযোগ

নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে মধ্যরাতে আটক করে কয়েক দফায় মারধরের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।

মারধরের পর তাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয় এবং পরে পুলিশ প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। রবিবার (৮ মার্চ) দিবাগত রাতে বুয়েট ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর নাম পাভেল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রলীগের পক্ষে বিভিন্ন ধরনের অ্যাক্টিভিটি করেন তিনি।

ঘটনার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক বর্ণনায় দাবি করা হয়েছে, পাভেলকে অন্তত পাঁচ দফায় মারধর করা হয়। প্রথমে বুয়েটের নজরুল হলের ক্যাফেটেরিয়ায় সেহেরি খাওয়ার সময় তাকে মারধর করা হয়। এ সময় ছাত্রশক্তির হাসিব আল ইসলাম, সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন, আফ্রিদি ও সর্দার নাদিম শুভর নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন তাকে মারধরে অংশ নেন।

পরে তাকে বুয়েটের গেটে নিয়ে আবার মারধর করা হয়। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে তুলে ঢাবির ভিসি চত্বরে এনে আরও এক দফা মারধর করা হয়। এরপর রাজু ভাস্কর্য এলাকায় নিয়ে আবারও তাকে মারধর করা হয়। সবশেষে শাহবাগ থানার সামনে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তাকে কিল-ঘুষির পাশাপাশি বাইকের শেকল ও তালা দিয়ে পেটানো হয়। এতে তার হাতের আঙুল থেতলে যায় এবং পায়ে আঘাত পাওয়ায় তিনি ঠিকভাবে হাঁটতে পারছিলেন না। বেশিরভাগ আঘাত তার চোখের দিকেই করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, মারধরের সময় তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। মারধরের পর তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়লে শাহবাগ থানার ভেতরে একটি গাছের নিচে তাকে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনাস্থলে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কাউসার আহমেদ জানান, পাভেল ক্যাম্পাসের জুনিয়র শিক্ষার্থীদের নিয়ে বুয়েট ক্যান্টিনে খাবার খাওয়াচ্ছিলেন এবং তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল্লাহ, হাছিবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা তাকে চিনতে পেরে আটক করেন। পরে তাকে মারধর করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে জানতে তাৎক্ষণিকভাবে মারধরের সঙ্গে জড়িত কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখা সম্পাদক সাইফুল্লাহ তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ধরেছি। শাহবাগ থানায় নিয়ে যাচ্ছি। লীগ প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহবাগ থানার এসআই কামাল বলেন, ছাত্ররা ওই শিক্ষার্থীকে (পাভেল) ধরে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছিল।হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে তাকে আবার থানায় নিয়ে আসা হবে।

তিনি আরও জানান, তাকে আটক করা হয়েছে কি না বা কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না। এর উত্তরে এসআই কামাল জানায়, থানার ওসি এই মুহূর্তে নেই। ওসির সাথে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, আমার সাথে থানার কোনো কথা হয়নি। বিষয়টা জানি। কিন্তু পুলিশ কী করবে, বিষয়টি পুলিশ দেখবে। সে যদি মামলার আসামি হয় বা অপরাধী হয় প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





Loading...
Loading...


রাজধানী এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy