প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৪:৪১ পিএম (ভিজিট : ১৪২)

X
চাল বিতরণে অনিয়ম
দিনাজপুরের হাকিমপুরে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে এর তথ্য সংগ্রহে গিয়ে দেখা যায় চাল কম দিচ্ছেন। এই দুর্নীতি উদঘাটন করতে গেলে ইউপি সদস্য ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ৩ সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটান। এদিকে চাল ওজনে কম ও একই ব্যাক্তিকে ২৯ কেজি চাল ওঠাতে দেখা গেছে। সেই চাল আবার পরিষদের বাইরে বিক্রি করাও অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার সকাল ১০ টা থেকে উপজেলার একটি পৌরসভা ও তিনটি ইউনিয়নের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু হয়। ৩ নং আলীহাট ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে এমন খবর আসে সংবাদিকের কাছে। খবর পেয়ে ৭১ টেলিভিশনের সাংবাদিক সামিউল ইসলাম, সমকালের সাংবাদিক মুসা মিয়া ও দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিনের সাংবাদিক রমেন বসাক দুপুর ১২টায় ইউনিয়নপরিষদের চাল বিতরণে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে যায়। সরেজমিনে গিয়ে প্রত্যেক সুবিধা ভোগীতে অন্তত ২শ গ্রাম করে কম চাল দিতে দেখা যায়। শুধু তাই নয় ডিজিটাল ওজন স্কেলে ওপর কম পক্ষে ৫০০ গ্রাম করে চাল ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতেও দেখা যায়।
বিষয়টি জানতে চাইলে ওজন স্কেলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ইউপি সদস্য ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন সাংবাদিকরা দেখার কে। অকথ্য গালিগালাজ ও ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। এবং জীবনে কত সাংবাদিকে খেয়েছি বলে হুমকি দেন।
একজন ব্যাক্তিকে একাধিকবার টোকেন দিয়ে চাল উঠাতে দেখা গেছে। সেই চাল ইউনিয়ন পরিষদের পাশ্বে অস্থায়ী দোকানে ১০ কেজি চাল ২৮০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। অভিযোগ আছে কিছু অসাধু ইউপি সদস্য টাকার বিনিময়ে টোকেন বিক্রি বিক্রি করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানান, ইউপি সদস্যসহ কিছু অসাধু সদস্য মোটা অংকের টাকার বিনময়ে টোকের বিক্রি করেছেন। ওই টোকনের চাল সংগ্রহ করে অনেকে বাজারে বিক্রি করছেন। তিনি আরো বলেন, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা করা হয়নি। অনেকের নাম তালিকায় আছে কিন্তু তারা জানানো হয়নি। সেই টোকেনগুলি বিক্রি করা হয়েছে। তদন্ত করলে ব্যাপক দূর্নীতি বেরিয়ে আসবে।
জাহিদ হাসান নামের ১৪ বছরের এক কিশোরকে ১০ কেজি করে ২৮০ টাকা দরে ৪ বার চাল বিক্রি করতে দেখা যায়। ৩ বার চাল তুলে বিক্রি করেছে স্বীকার করে ওই কিশৈার কৌশলে কেটে পড়ে।
ওজনে কম ও কাউকে ৩ টি টোকেনের বিনিময়ে ২৯ কেজি চাল দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ট্যাগ অফিসার উপজেলা সহকারী যুবউন্নয়ন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, আমি কিছুক্ষণের জন্য চেয়ার্যান অফিসে বসে ছিলাম। এর মধ্যে কি করেছে আমার জানা নেই। কাউকে ১০ কেজির বেশী দেওয়া বা ওজনে কম দেওয়ার কথা নয়।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও অশোক বিক্রম চাকমা জানান, ভিজিএফ চাল বিতরণে কেউ অনিয়ম করলে তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।