ভাঙ্গুড়ায় ৪ পরিবারকে ‘লকডাউন’ দিয়ে অবরুদ্ধ করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ৪টি পরিবারকে লক ডাউন ও সামাজিকভাবে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নে পাটুল গ্রামে

2026-03-12T17:37:42+00:00
2026-03-12T17:37:42+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ভাঙ্গুড়ায় ৪ পরিবারকে ‘লকডাউন’ দিয়ে অবরুদ্ধ করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৫:৩৭ পিএম   (ভিজিট : ১৮৬)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ৪টি পরিবারকে লক ডাউন ও সামাজিকভাবে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নে পাটুল গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত হচ্ছেন,পাটুল গ্রামের গ্রাম্য প্রধান মৃত কিয়ামুদ্দিন প্রাং এর ছেলে হাবিবুর  রহমান, মৃত ময়েজ প্রাং-এর ছেলে  মোজাম্মেল হক, দিলপাশার ইউনিয়ন সচিব ও নাজিমুদ্দিন প্রাং-এর ছেলে শামীম হোসেন, মৃত মোক্তার হোসেনের ছেলে আলতাব হোসেনসহ কতিপয় গ্রামবাসী। প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন,  ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মো. সোরাব প্রাং, নূর মোহাম্মদ প্রাং আব্দুল লতিফ প্রাং, শহিদুল ইসলাম প্রাং।

বুধবার(১১মার্চ)দুপুর ২টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তারা এমন অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে  অভিযুক্তদের পক্ষে গ্রাম্য প্রধান ও মৃত ময়েজ প্রাং-এর ছেলে মোজাম্মেল হক প্রাং  বলেন, তারা নিজেরই  ওই চার পরিবার থেকে নিজেদেরকে দূরে রেখেছেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে  ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের পাটুল গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।  তাদের বাপ-দাদা পূর্বপুরুষ থেকে যুগ যুগ ধরে এই গ্রামে বসবাস করে আসছেন। গত বৃহস্পতিবার(৫মার্চ)পাটুল মৌজার মাটি কাদা বিলে সোহরাব প্রাং-এর ছেলে  নূর মোহাম্মদ গংদের নামে স্থাপিত ক্ষুদ্র ইরিগেশন স্কীম প্রকল্পের জমি লীজ নিয়ে একই গ্রামের মৃত কিয়ামুদ্দিন প্রাং-এর ছেলে  হাবিবুর রহমান গং পার্শ্ববর্তী আশরাফ-আসাদ স্কীমে জমি দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার   বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে  পাটুল গ্রামের গ্রাম্য প্রধান ও মৃত কিয়ামুদ্দিন প্রাং-এর ছেলে হাবিবুর  রহমান,ময়েজ উদ্দিন প্রাং-এর ছেলে  মোজাম্মেল হক, দিলপাশার ইউনিয়ন সচিব শামীম হোসেন, আলতাব হোসেনসহ কতিপয় গ্রামবাসী সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্তের  নামে তাদের ৪টি পরিবারকে সামাজিকভাবে অবরুদ্ধ, লকডাউন করে রেখেছেন।পাশাপাশি  স্বাভাবিক জীবন যাপন, ব্যবসা-বাণিজ্য, মসজিদে ইবাদত বন্দেগী করতেও বাধা প্রদান করছেন।সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, কি আমাদের অপরাধ? আমরা কি দেশের মানুুষ না।দেশে কি প্রশাসন যন্ত্র নেই।

ঘটনার নেপত্তে ভুক্তভোগীরা জানান,পাটুল বাজার সংলগ্ন একটি জমি রেজিস্ট্রি  দলিল মূলে তারা ওই জমির মালিক। কিন্তু জমির এক প্রান্তে মৃত কিয়ামুদ্দিনের ছেলে  হাবিবুর রহমান গং খাস সম্পত্তি দেখিয়ে দোকান ঘর, নির্মাণ  করে তারা ভোগ দখল করছেন। দলিল মূলে যেহেতু তারা ওই সম্পত্তির মালিক। ওই সম্পত্তির মালিক দাবি করায় হাবিবুর রহমান, মোজাম্মেল হক, ইউপি সচিব শামীম হোসেন, আলতাব হোসেন গং দের সাথে হাত মিলিয়ে শুক্রবার(৬মার্চ)ইউপি সচিব শামীম হোসেনের নির্দেশনায়  গ্রাম পুলিশ দিয়ে লোক ডাকিয়ে সভা করে সোহরাব প্রাং, শহিদুল প্রাং, আব্দুল লতিফ প্রাং ও নুর মোহাম্মদ প্রাংসহ  ৪টি পরিবারকে সামাজিকভাবে অবরুদ্ধ এবং লকডাউন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।শুধু তাই নয় গ্রামের  পল্লী চিকিৎসক গজেন্দ্রনাথ হালদার কেও ডেকে তারা কঠোর  নির্দেশনা দেন যে, উল্লেখিত ওই চার পরিবাররের কোন ব্যক্তি অসুস্থ্য হলে তাদের চিকিৎসা সেবাও দেয়া যাবে না।

ভূক্তভোগিরা আরোও  জানান, যদি কোন অপরাধ করে থাকি। আইন আদালত আছে তার মাধ্যমে তাদের বিচার ব্যবস্থা হোক। কিন্তু উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গ গ্রাম্য প্রধানের দায় দিয়ে বর্বর যুগের কায়দায় তাদের চার পরিবারকে ব্যবসা বাণিজ্য, স্বাভাবিক চলাচলে, মসজিদে ইবাদত বন্দেগীতে, লকডাউন সামাজিক অবরুদ্ধের তাদের মৌলিক অধিকার সহ মানবাধিকার  হরণ করছেন। যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়।  এই অধিকার কে তাদেরকে দিয়েছেন?

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবী করেন,পাটুল গ্রামের বাসিন্দা নাজিমুদ্দিনের ছেলে  ও দিলপাশার ইউনিয়নের সচিব শামীম হোসেন। সরকারি চাকরি করলেও এলাকাতেই অবস্থান করেন। মূলত গ্রামের মৃত কিয়ামুদ্দিনের প্রাং-এর  ছেলে হাবিবুর রহমান ও নাজিমুদ্দিন প্রাং-এর ছেলে  ইউপি সচিব শামীম হোসেন প্রধানদের উস্কানি দিয়ে বর্বর যুগের এই সামাজিক অবরুদ্ধ, লকডাউন জারি  করে আমাদের চার পরিবারের  স্বাভাবিক চলাচল ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করছেন। যা মধ্যযুগীয় বর্বরতার পরিচয় দিয়ে সামাজিক অবরুদ্ধতা ও লকডাউন, মসজিদে নামাজ পড়াসহ স্বাভাবিক জীবন চলাচলে বাধাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের নিকট জোর দাবিও জানান।

ঘটনার বিষয়ে পাটুল গ্রামের গ্রাম মৃত ময়েজ উদ্দিন প্রাং-এর ছেলে  মোজাম্মেল হক প্রাং বলেন, ‘আমরা পাটুল গ্রামবাসী তাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছি বিষয়টি সঠিক নয়। তারা স্বাভাবিক ভাবে চলাচলসহ দৈন্দিন সকল কাজ-কর্ম করছেন।বরং আমরাই  তাদের নিকট থেকে ঝনঝাট মুক্ত থাকার জন্য নিজেদের দূরে রেখেছি।’





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy