
X
শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা থাকলে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার এমন পরিস্থিতিতে পড়ত না।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়া শহরের করতোয়া কনভেনশন সেন্টার-এ সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়া আয়োজিত বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট-এর চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের সাত জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক এবং সাংবাদিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের জন্য নেওয়া এসব উদ্যোগ কোনো দয়া বা অনুদান নয়; বরং এটি গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি জানান, বগুড়াবাসী দীর্ঘদিন যেসব অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, সেগুলো তালিকাভুক্ত করে ধাপে ধাপে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০০৪ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর হাতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত বগুড়া প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ ভবন নির্মাণের দায়িত্বও তিনি নিয়েছেন।
গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য
তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ। আধুনিক সভ্যতায় গণমাধ্যম ছাড়া সমাজের অগ্রগতি কল্পনা করা যায় না। গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে এবং রাষ্ট্রের কার্যক্রম জনগণের সামনে তুলে ধরতে স্বাধীন গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের সব কর্মকাণ্ড আয়নার মতো তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। তাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।” একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ও সময়োপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারও করা হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের বয়স এখনও এক মাসও পূর্ণ হয়নি। তবে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কল্যাণে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, কৃষক কার্ড চালু এবং কৃষিঋণ মওকুফের মতো কর্মসূচি রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির-এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের দেওয়া অর্থ কোনো অনুদান নয়, এটি তাদের প্রাপ্য। গত ১৭ বছরে সাংবাদিকরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কলম দিয়ে লড়াই করেছেন এবং সেই সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি বগুড়ায় প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-র হাতে উদ্বোধন করা টেলিভিশন সেন্টার ও বাংলাদেশ বেতার-এর কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর জন্য তথ্যমন্ত্রীর প্রতি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এবং সাংবাদিক নেতা গণেশ দাসসহ অন্যরা।
এসময় রাজশাহী বিভাগের সাত জেলার ৫১ জন সাংবাদিককে আর্থিক সহায়তা এবং ৪৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তির চেক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সাঈদ।