প্রকাশ: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫৭ এএম (ভিজিট : ২২৯)

X
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বাবুরহাট লঞ্চঘাট সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বাবুরহাট লঞ্চঘাট ও বকশী লঞ্চঘাট এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এমাদুল হোসেন। এ সময় দক্ষিণ আইচা থানা পুলিশ প্রশাসনকে সহযোগিতা করে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এমাদুল হোসেন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় অবৈধ বালু উত্তোলনের কোনো ড্রেজার পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, কিছু ব্যক্তি রাতের বেলা কিংবা খুব ভোরে ড্রেজারের মাধ্যমে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে থাকে।
অভিযানকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়- ভবিষ্যতে কেউ নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলে দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে। পাশাপাশি বালু ব্যবসায়ীদের সব সময় বালু ক্রয়ের বৈধ রশিদ সংরক্ষণে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, এর আগে বাবুরহাট লঞ্চঘাট সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কয়েকটি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয় এবং চরফ্যাশন উপজেলার সংশ্লিষ্ট সরকারি ১৪টি দপ্তরে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ ও লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর পর উপজেলা প্রশাসন কিছুটা নড়েচড়ে বসেছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে এবং নদী রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়ছে।
এ কারণে নজরুলনগর ও মুজিবনগর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ নদীভাঙনের আশঙ্কায় উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ অবস্থায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।