মাঝরাতে চট্টগ্রামের রেলওয়ে সিসিএস দপ্তরে রহস্যজনক আগুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সারাবাংলা

​চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিসিএস) দপ্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখায় গভীর রাতে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।গতকাল শুক্রবার

2026-03-14T15:29:54+00:00
2026-03-14T15:29:54+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
মাঝরাতে চট্টগ্রামের রেলওয়ে সিসিএস দপ্তরে রহস্যজনক আগুন
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৩:২৯ পিএম   (ভিজিট : ৯৫)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি


​চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিসিএস) দপ্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখায় গভীর রাতে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। 

গতকাল শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টা দিকে দপ্তরের ‘পি-টু’ শাখায় এই অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে অসংখ্য পুরোনো ফাইলপত্র ও নথিপত্র। দপ্তরে কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকলেও জরুরি মুহূর্তে তার একটিও কাজ না করায় পুরো বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক রহস্যের দানা বেঁধেছে।


​প্রত্যক্ষদর্শী ও দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়তলীর এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি কেপিআই জোন হিসেবে চিহ্নিত এবং এখানে মালামাল সংরক্ষণের জন্য বড় গুদাম রয়েছে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ নথিপত্র রাখার কক্ষে আগুনের শিখা দেখা দিলে পাহারারত আরএনবি (রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী) সদস্যরা দ্রুত সেখানে থাকা ‘ফায়ার স্টিম বুশার’ দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সারিবদ্ধভাবে রাখা ঐ সরঞ্জামগুলোর একটিও সক্রিয় ছিল না। খবর পেয়ে আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।


অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর সেখানে ছুটে আসেন সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক রাশেদ ইবনে আকবরসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য কর্মকর্তারা। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য রেলওয়ের লোকজন কি ব্যাবস্থা নিয়েছিলো জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, স্টিম বুশার দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু পরে দেখা যায়, আগুন নেভানোর জন্য রাখা ফায়ার স্টিম বুশারগুলোই মেয়াদোত্তীর্ণ। বিষয়টি দেখে তিনি এবং অন্য কর্মকর্তারা হতভম্ব হয়ে যান।


একটি ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, জরুরি দাপ্তরিক ফাইল থাকা কক্ষে স্প্রে করার পর আগুন নেভার পরিবর্তে উল্টো আরও বেড়ে যায়।


​ঘটনাটি কেবল দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত কোনো নাশকতা—তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তীব্র সংশয় দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যেখানে দপ্তরের নথিপত্র ও কেনাকাটার গুরুত্বপূর্ণ ফাইল রাখা হয়, ঠিক সেই কক্ষেই আগুন লাগার ঘটনাটি ‘প্রমাণ লোপাটের পরিকল্পিত চেষ্টা’ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 


সংশ্লিষ্টদের মতে, ঘটনার দিন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সেখানে ঠিকাদারের লোক কাজ করেছে এবং ভবনের ছাদ আংশিক খোলা ছিল। গভীর রাতে বন্ধ অফিসে শর্টসার্কিট বা সিগারেটের আগুনের তত্ত্ব নিয়ে খোদ কর্মকর্তাদের মধ্যেই সন্দেহ রয়েছে।

​পাহাড়তলীর এই দপ্তরটি রেলওয়ের পণ্য ক্রয় ও মজুত করার প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় এখানে রাসায়নিকসহ নানা দাহ্য পদার্থ থাকে। এমন স্থানে মেয়াদোত্তীর্ণ অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখা এবং রহস্যজনক আগুনের ঘটনায় রেলওয়ের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনা পুনরায় সামনে এসেছে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে বলে জানানো হয়েছে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy