
X
নীলফামারীতে কৃষকদের নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে নিরাপদ মিষ্টি কুমড়া চাষ
উত্তরের জেলা নীলফামারীতে কৃষকদের নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে নিরাপদ মিষ্টি কুমড়া চাষ। কৃষি বিভাগের বিশেষ প্রণোদনায় স্বল্প সময়ে লাভজনক এই ফসল এখন ছাড়িয়ে যাচ্ছে স্থানীয় বাজারের গন্ডি। পৌঁছাচ্ছে ইতালি, সিঙ্গাপুরসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে। আর এই কুমড়ার ক্ষেত ঘিরে গড়ে উঠেছে মৌচাষ, মিলছে খাঁটি মধু। সমন্বিত এই চাষাবাদে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র।
সবুজের বুক চিরে হলুদের সমারোহ। দিগন্তজোড়া নিরাপদ মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেত যেন সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। উত্তরের জনপদ নীলফামারীর মাটিতে এবার কুমড়ার বাম্পার ফলন ফলেছে। বিশেষ করে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ জমিতে আলু উত্তোলনের পর অলস পড়ে থাকা জমিতেই হচ্ছে কুমড়ার আবাদ। কৃষি বিভাগের কারিগরি সহায়তা ও প্রণোদনায় বাড়ছে চাষের পরিধি। আবার এই কুমড়ার ক্ষেতজুড়ে যুক্ত হয়েছে মৌমাছির চাষ। সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থাপনায় একই জমিতে ফসল ও মৌচাষ করে দ্বিগুণ লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা।
কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত মকর আলীর পুত্র তৈয়ব আলী, মৃত জহুরুদ্দিনের পুত্র কাশেম আলী ও মৃত হেসাহার মামুদের পুত্র মহত আলী বলেন, আলু বীজ বোপনের ১০দিন পর সেই জমিতে দেশী ও হাইব্রিড জাতের নিরাপদ মিস্টি কুমড়ার বীজ রোপন করা হয়। পর্যাপ্ত সার ও পানির প্রয়োজন হয়না। আলু উত্তোলনের পর অতিরিক্ত লাভজনক ফসল হিসেবে কুমড়া পাওয়া যায়। প্রতিটি কুমড়ার ওজন ৫কেজি থেকে ৭কেজি পর্যন্ত ফলে। কৃষি বিভাগের সহায়তায় পোকা মাকর দমনে হলুদ আঠালো ফাঁদ ও ফেরোমন ফাঁদ ক্ষেতে স্থাপন করা হয়েছে।
মধু চাষী মোঃ শাহানুর ইসলাম জানান, মৌমাছির স্বাভাবিক পরাগায়নে কুমড়ার ফলন বাড়ছে প্রায় ২৫থেকে ৩০শতাংশ। আলাদা করে কৃত্রিম পরাগমের প্রয়োজন না থাকায় উৎপাদন খরচও কমছে। এতে একদিকে মিলছে রপ্তানিযোগ্য মানের কুমড়া, অন্যদিকে সংগ্রহ হচ্ছে খাঁটি ও সুস্বাদু মধু।
সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলছেন, পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ কুমড়ায় রয়েছে ভিটামিন এ সি আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শিশু থেকে বয়স্ক সব বয়সীদের উপকারী।
জেলা প্রশাসক মোঃ নায়িরুজ্জামান বলেন, কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় কয়েকশ’ হেক্টর জমিতে কুমড়ার আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সমন্বিত চাষাবাদে কৃষি বহুমুখীকরণ যেমন নিশ্চিত হচ্ছে, তেমনি সচল হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা। কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে মাঠে কাজ করার আশ্বাস জেলা প্রশাসনের।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আকতারুল জামান বলেন, সমন্বিত চাষাবাদের এই সফলতা ধরে রাখতে প্রয়োজন ধারাবাহিক সহায়তা ও বাজার সম্প্রসারণ। তাহলে কৃষকের ঘরে হাসি আরও বাড়বে এমনটাই প্রত্যাশা কৃষি বিভাগের।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনজুর রহমান জানান, মিষ্টি কুমড়ার হলুদ ফুলে মৌমাছির গুঞ্জন যেন সম্ভাবনার সুর। স্বল্প ব্যয়ে অধিক লাভের এই উদ্যোগ বদলে দিচ্ছে উত্তরের কৃষি চিত্র। কুমড়ার মিষ্টতায় আর মধুর সুবাসে সমৃদ্ধ হচ্ছে নীলফামারীর গ্রামীণ অর্থনীতি। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব কুমড়া যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে। রপ্তানিকারকদের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশে যাচ্ছে উৎপাদিত পণ্য। এতে কৃষকের আয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।