
X
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) ২০২২ সালে প্রায় ৩৫ লাখ টাকায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ পুনঃখননকৃত একটি খাল পুনরায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড খননের উদ্যোগে নিয়েছে।
আগামী সোমবার (১৬ মার্চ) নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোয়াড়ী ইউনিয়নের কামারদহ গ্রাম থেকে কুমরুল হয়ে খোর্দ্দকাচুটিয়া পর্যন্ত দীর্ঘ মির্জা মাহমুদ খাল খনন কাজে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় সংসদের হুইপ এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এর উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে। খননকৃত খাল পুনরায় খননের খবরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে খাল পারের মানুষের।
বিএডিসি সূত্রে জানা যায়, বড়াইগ্রাম উপজেলার জোয়াড়ী ইউনিয়নের কামারদহ গ্রামে নন্দকুজা নদী থেকে কুমরুল হয়ে খোর্দ্দকাচুটিয়া পর্যন্ত দীর্ঘ একটি খাল প্রবাহমান। যার স্থানীয় নাম মির্জা মাহমুদ খাল। এই খাল দিয়ে বর্ষাকালে অন্তত ১০ গ্রাম ও বিলের প্রানি নিষ্কাসন হয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় প্রায় ভরাট হয়ে পরায় ২০২২ সালে বিএডিসির উদ্যোগে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মাথায় ৮/১০ মিটার তলানিতে ৩/৪ মিটার এবং আড়াই থেকে ৩ মিটার গভীরতা নিয়ে খালটি পুনঃখনন কাজ করে। মাত্র ৪ বছরের মাথায় একই খাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে পুনঃখননের উদ্যোগে নেওয়া হয়।
শুক্রবার সরেজমি খালটি পরিদর্শন করা হয়। এসময় দেখা যায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার খালে অন্তত ৫টি ছোটব্রীজ দিয়ে মানুষের পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরমধ্যে খালের মাথায় কামারদহ এলাকায় একটি ব্রীজ খননকৃত খালের চেয়ে অন্তত ৪/৫ ফুট উচ্চতার তলানি এবং তার পাসদিয়ে বয়ে যাওয়া গ্যাসের পাইব লাইন রয়েছে। ফলে নদী থেকে খালে প্রানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। তাই ব্রীজের তলা অপসারন না করে শুধু খালের গভীরতা বৃদ্ধি করে কোন সুফল আসবে না। এছাড়া বিএডিসি কর্তৃক খননকৃত খালটি এখনো ১০ ফুট গভীর রয়েছে একই সাথে দুই ধারে বাঁধা পাড়ও ভাঙেনি।
এসময় কামারদহ গ্রামের আতাউর রহমান বলেন, খাল খনেন কাজ তো আগেই করা হয়েছে। এখন ব্রীজের তলা ভেঙে দিলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে। এছাড়া বিএডিসি কর্তৃক খননকৃত খালটি এখনো তেমন কোন ভরাট হয়নি।
কুমরুল উত্তরপাড়া গ্রামের আবু সাঈদ বলেন, খনন করা খাল পুনরায় খনন করে সরকারের টাকা অপচায় ছাড়া আর কিছু না। তাই তো বিএডিসির খননের সাইবোর্ড ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। এখন সেখানে হয়তো নতুন সাইন বোর্ড লাগাবে । খননের টাা হালাল করতে।
একই গ্রামের বয়োবৃদ্ধ আলফাজ ও আফজাল বলেন, খাল তো আমাদের মাল সম্পত্তি দিয়ে কেটেছে। এবার যদি কাটে তাহলে যেন খালের জায়গা দিয়েই কাটে। আর আমাদের জমি গুলো ভরাট করে সমতল জমি করে দেয়। তাহলে গরীব মানুষের কিছুটা উপকার হবে।
খোর্দ্দকাচুটিয়া গ্রামের আব্দুল জলিল বলেন, নন্দকুজা নদীতেইতো পানি নাই। আবার খালের মুখে ব্রীজ দিয়ে বন্ধ। এদিকে খনন করে লাভ নাই। বিলের পানি নামার জন্য যা আছে সেটাই যথেষ্ট।
এ বিষয়ে বিএডিসি নাটোরের নির্বাহী প্রকৌশলী .সাজ্জাদ হোসাইনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড নাটোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রিফাত করিমের সাথে মোবাইল ফোনে এবং মেসেজ করেও যোগাযোগ করা যায়নি। তবে ওই অফিসের দুইজন উপ-সহকারী কামরুন্নাহার ও রোজিনা খাতুনের সাথে কথা বলা সম্ভব হলেও মোট ব্যয়ের তথ্যটা জানার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।
নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহিন নিজেও মোবাইল ফোন এবং মেসেজের উত্তর না দেওয়ার দলে রয়েছেন ।