প্রকাশ: রোববার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম (ভিজিট : ৩০৩)

X
প্রতীকী ছবি
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাÐার থেকে দেয়া ঈদ উপহার নেত্রকোনার পুর্বধলা আসনে দেয়া হয়নি। এতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মাছুম মোস্তফা।
নেত্রকোণা জেলার অন্যান্য ৪টি আসনে উপহার হিসেবে কাপড় বরাদ্দ দেওয়া হলেও তাঁর নির্বাচনী এলাকা বাদ পড়ায় তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার-২ এস. এম. পারভেজ স্বাক্ষরিত এক তালিকায় দেখা যায়, নেত্রকোণা জেলার ১, ২, ৩ এবং ৪ নম্বর সংসদীয় আসনের অনুক‚লে শাড়ি, থ্রি-পিস ও হাজী রুমাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় নেত্রকোণা জেলার অন্যান্য ৪টি সংসদীয় আসনের এমপিদের নাম থাকলেও নেত্রকোণা-৫ আসনের নাম এমপির নাম নেই। এই তালিকায় নিজের নির্বাচনী এলাকা বাদ পড়ায় গতকাল শনিবার মাছুম মোস্তফা তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে লেখেন: "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার সদয় দৃষ্টি কামনা করছি। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে সরকার দলীয় এমপিগণের নির্বাচনী এলাকায় ঈদ উপহার হিসাবে কাপড় বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধীদলীয় এমপিগণের নির্বাচনী এলাকায় সেই বরাদ্দ দেওয়া হয় নি।
দেশের মানুষ আর এই বৈষম্য দেখতে চায় না।" বরাদ্দকৃত তালিকায় দেখা যায়, প্রতিটি আসনের অনুক‚লে ৭০০ পিস শাড়ি, ১০০ পিস থ্রি-পিস ও ৫০ পিস হাজী রুমাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নেত্রকোণা-৫ আসনের সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বরাদ্দে বৈষম্যের বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য হওয়ায় এই জনপদ উপহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন চলছে। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নেটিজেনরা নানা মন্তব্য করছেন।
মো: সোলায়মান কবির পাপ্পু নামে একজন লেখেন “দালাল আর মোনাফেকদের কাছে হেরেছে পূর্বধলা। নেত্রকোনার বাকী ৪টি আসনে যেভাবে ঈদের ত্রাণ সামগ্রী এসেছে পূর্বধলায়ও তার ব্যতিক্রম হতোনা। ঠিক সেভাবেই ত্রাণ সামগ্রী বা সকল সুযোগ সুবিধা আসত। যদি আলহাজ¦ আবু তাহের তালুকদার এমপি থাকতেন” এই রকম আরও বহু কিছু হবে এই ৫ বছরে।” খান জাহাঙ্গীর নামে একজন লিখেছেন আমরা কি তাহলে “সবার আগে বাংলাদেশ” এর পরিবর্তে “সবার আগে বিএনপির নীতিতে”।
তারা ক্ষমতায় গিয়ে সারা জীবন কি তারাই ক্ষমতায় থাকবে মনে করছে। প্রধানমন্ত্রী কি শুধু ৫০% লোকের? আমাদের এলাকার মানুষ মনে হয় ভ্যাট টেক্স দেয়া না? জাতি এ বৈষম্য মনে রাখবে।” জহিরুল ইসলাম সোহান নামে একজন লিখেছেন “ফেসবুকে দেখলাম নেত্রকোণার ৪টি আসনে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পূর্বধলা আসনে বরাদ্দ দেওয়া হয় নাই। এই বরাদ্দ কি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল হতে নাকি দলীয় তহবিল হতে? যদি দলীয় তহবিল থেকে হয় তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু যদি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে হয় তাহলে সকল সংসদ সদস্যদের এই বরাদ্দ পাওয়ার অধিকার ছিল।”
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, বিরোধী দলের এমপিদের এলাকায় ঈদ উপহার না দেয়ার বিষয়টি চরম বৈষম্যের সামিল। তিনি এ বিষয়ে বিরোধী দলীয় চিপ হুইপ নাহিদ ইসলামের সাথে কথা বলেছেন বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করার জন্য।