প্রকাশ: রোববার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ৪:৪৮ পিএম আপডেট: ১৫.০৩.২০২৬ ৪:৫১ পিএম (ভিজিট : ৭২)

X
প্রতীকী ছবি
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে আত্মহত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এই প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবার ও সচেতন মহলের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক মাসে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় একাধিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত ৮ মার্চ রায়পুর একদিনে দুটি আত্মহারা ঘটে। উপজেলার ২নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের নতুন ব্রিজ সংলগ্ন নিজ বাড়িতে শুকুর(২৩) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। অন্যদিকে পৌর এলাকার লেংড়া বাজার সংলগ্ন গোলাম হায়দার বাড়ির সামনে একটি ভাড়া বাসায় এক যুবতী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জয়ন্ত পাল (২০) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত জয়ন্ত পাল রায়পুর রুস্তম আলী ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। একই দিনে ইউসুফ আলী বুলু রাড়ী (৫২) নামে এক বিএনপি নেতার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়া আত্মহত্যা করে। পরে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ইউসুফ উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
রবিবার ১৫ মার্চ উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের মোল্লার হাট এলাকায় এক কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। প্রেমিকার সাথে অভিমান করেছে গলায় ফাঁস দিয়ে এ আত্মহত্যা করে। পরে পুলিশ লাস উদ্ধার করে তারা নিয়ে আসে। গত তিন মাসে রায়পুরে ২০টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পারিবারিক কলহ, প্রেমঘটিত বিরোধ, আর্থিক সংকট এবং সামাজিক চাপকে এসব ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সময় পারিবারিক অশান্তি বা মানসিক চাপের কারণে তরুণরা চরম হতাশায় ভুগে আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নিচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, “বর্তমান সময়ে তরুণদের মধ্যে ধৈর্য কমে যাচ্ছে। ছোটখাটো সমস্যা বা মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তারা চরম সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা খুবই উদ্বেগজনক।”
এ বিষয়ে স্থানীয় সমাজকর্মীরা মনে করেন, পরিবারে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মানসিক সহায়তার অভাবও একটি বড় কারণ। তারা বলেন, অনেকেই মানসিক সমস্যার কথা পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেন না। ফলে হতাশা বাড়তে বাড়তে একসময় চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
রায়পুর থানার ওসি শাহিন মিয়া বলেন, আত্মহত্যার প্রতিটি ঘটনার বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করে থাকে। তবে সামাজিক সচেতনতা ও পারিবারিক নজরদারি বাড়ানো ছাড়া এ ধরনের ঘটনা কমানো কঠিন।