
X
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান
সারাদেশে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে আজ দিনাজপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম জেলা সফর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর একঝলক দেখার আশায় সকাল থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি বলরামপুর গ্রামের সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে একযোগে দেশের ৫৩টি জেলায় খাল খনন কার্যক্রম শুরু হবে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে এলাকায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরাও সার্বিক প্রস্তুতি তদারকি করছেন। অনুষ্ঠানস্থলে ইতোমধ্যে মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী প্রতীকীভাবে কোদাল দিয়ে মাটি কাটার মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করবেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং র্যাবের সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। ডগ স্কোয়াডসহ গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে রওনা হয়ে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে সড়কপথে দুপুরের মধ্যে কাহারোল উপজেলায় পৌঁছে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন এবং সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।
এরপর তিনি দিনাজপুর শহরের শেখ ফরিদপুর কবরস্থানে গিয়ে তার নানা এম. ই. মজুমদার, নানি বেগম তৈয়বা মজুমদার এবং বড় খালা বেগম খুরশীদ জাহান হকের কবর জিয়ারত করবেন।
বিকেলে শহীদ বড় ময়দানের দক্ষিণ প্রান্তে আয়োজিত সুধীজন ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা এবং দলীয় ইফতার মাহফিলে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। অনুষ্ঠান শেষে তিনি রাতেই সৈয়দপুর বিমানবন্দর হয়ে ঢাকায় ফিরবেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে দিনাজপুর জেলায় জোর প্রস্তুতি চলছে। সভাস্থল প্রস্তুত করা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে জেলার মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার কৃষি ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। প্রায় ১২ দশমিক ৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার বিঘা জমি চাষের আওতায় আসবে এবং উপকৃত হবেন প্রায় ৩৫ হাজার কৃষক।
তিনি আরও বলেন, খাল পুনঃখনন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং কৃষি উন্নয়ন ছিল বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম অংশ, যার বাস্তবায়ন শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী।