প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১:৩৪ পিএম আপডেট: ১৬.০৩.২০২৬ ৩:৫৩ পিএম (ভিজিট : ১০৮)

X
গাজীপুরের ৯৫ শতাংশ কলকারখানায় বকেয়া বেতন ও ৯১ শতাংশ ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। ঈদে ছুটিতে যাওয়ার আগেই বাকি কারখানার বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস পাবেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ঈদযাত্রায় এবারও যানজট এড়াতে ধাপে ধাপে ছুটি হচ্ছে গাজীপুরের পোশাক কারখানা। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাত দিনের সরকারি ছুটি মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে। হিসাবে সোমবার বিকেল থেকেই অনেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করবেন।
শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি ছুটি সাতদিনের হলেও পোশাক কারখানায় এ ছুটি ৭-১০ দিনের মতো হচ্ছে। তবে ঈদে যানজট ও ভোগান্তি এড়াতে ধাপে ধাপে গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলো ছুটি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ ও পোশাক কারখানার মালিকগণের সর্বসম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল থেকে অনেক পোশাক কারখানা ছুটি হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে ছুটি ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এতে ঈদের আগে পোশাক শ্রমিকরা টানা চার দিন ধরে ধাপে ধাপে গন্তব্যে যেতে পারবেন। এতে পোশাক শ্রমিকদের গন্তব্যে পৌঁছাতে ভোগান্তি এবং যানজট এড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ। তবে এরইমধ্যে অনেকে তাদের পরিবার পরিজন গ্রামে পাঠানো শুরু করে দিয়েছেন। তবে সোমবার দুপুর পর্যন্ত সড়ক মহাসড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক।
শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার বিকেলে বেশ কিছু পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হবে। আর সন্ধ্যার পর থেকেই ছুটি পাওয়া পোশাক শ্রমিকদের অনেকেই ঈদ উদযাপন করতে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন।
এদিকে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আমজাদ হোসেন জানান, পোশাক শ্রমিকদের ঈদ উদযাপনে গ্রামের বাড়িতে যেতে যেন কোনো প্রকার ভোগান্তি না হয় এবং যানজটের কবলে পড়তে না হয় সেজন্য গাজীপুরের সকল পোশাক কারখানাগুলো একযোগে ছুটি না দিয়ে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেই হিসাবে সোমবার বিকেল থেকেই পোশাক শ্রমিকরা ঈদ উদযাপন করতে নিজ নিজ গ্রামের বাড়ি যাওয়া শুরু করবেন বলে আশা করছি।
যেকোনো প্রকার ভোগান্তি ও যানজটমুক্ত পরিবেশে এবার ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে যেতে পারবেন। সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
গাজীপুর মহানগর ট্রাফিক পুলিশের উপ কমিশনার এস এম আশরাফুল আলম জানান, গাজীপুর মহানগর এলাকায় যানজট নিরসনে সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। মহাসড়কে পেট্রোল টিম,মোবাইল টিম ছাড়াও পোশাকে সাদা পোশাকে প্রায় এক হাজারের মতো মহানগর পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন। রাস্তায় বিকল যানবাহন সরাতে নয়টি রেকার মোতায়েন রয়েছে। চিরচেনা যানজটের এলাকা গাজীপুরের চান্দনা-চৌরাস্তায় ঢাকামূখী ফ্লাইওয়ে খুলে দেয়ায় এবারের ঈদে এ এলাকা যানজট মুক্ত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। কারণ আগে ময়মনসিংহগামী গাড়িগুলো নীচের একটি ফ্লাইওভার ব্যবহার করে চলে গেলেও ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী যানবাহনগুলো নিচ দিয়ে যেতে হতো। এবার ওই এলাকায় উপরের থাকা ফ্লাইওয়েটি খুলে দেয়ায় নিচের যানজট থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। রোববার পর্যন্ত গাজীপুরের ৯৫ শতাংশ বেতন এবং ৯১শতাংশ কারখানার বোনাস প্রদান করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। তাই ঈদের আগে শ্রমিকর অসন্তোষ সৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
এছাড়াও গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোঃ শরিফ উদ্দীন জানিয়েছেন, তাদের আওতাধীন ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কে ও কালীগঞ্জ এলাকায় বিশ্বরোডে ৮শ'র উপরে জেলা পুলিশ ট্রাফিক ডিউটিতে থাকছেন।