
X
হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে চীনের সহায়তা চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে আহ্বান জানিয়েছেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ট্রাম্পের এই চাপ বরং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
ট্রাম্পের আহ্বানের পর এখন পর্যন্ত বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন কৌশলগত বিশ্লেষণ বলছে, ট্রাম্পের চাপের মুখে পড়ে চীন হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে এমন সম্ভাবনা খুবই কম। এর পেছনে অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।
হুমকির কাছে নতি স্বীকার না করার নীতি
বিশ্লেষকদের মতে, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সাধারণত বাহ্যিক চাপ বা হুমকির কাছে নতি স্বীকারের নীতি অনুসরণ করেন না। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনার সময় ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর শতভাগের বেশি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু বেইজিং তখন নরম না হয়ে পাল্টা শুল্ক আরোপসহ বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ামূলক পদক্ষেপ নেয়।
সেই অভিজ্ঞতা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতিতেও চীন সহজে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মেনে নেবে না।
চীনের কূটনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক
বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের শুরু থেকেই চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করে আসছে। বেইজিং ধারাবাহিকভাবে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই একাধিকবার বলেছেন, ‘শক্তি প্রয়োগ কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।’ ফলে এমন অবস্থায় নিজেরাই ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে সামরিক কার্যক্রমে জড়ানো চীনের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।
ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক
আরেকটি বড় কারণ হলো চীনের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে চীনা বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখনও হরমুজ প্রণালিতে তুলনামূলকভাবে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে।
বিশেষ করে চীন বর্তমানে ইরানের তেলের অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা। ফলে বেইজিংয়ের জন্য এই অঞ্চলে নতুন করে সামরিক ঝুঁকি তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা খুব একটা নেই।
উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যে প্রত্যাশায় চীনের সহায়তা চেয়েছেন, বর্তমান বাস্তবতায় তা পাওয়া কঠিন। বরং এই চাপ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র করে তুলতে পারে।