মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহন করছে খড়মখালীর হালদার বাড়ি

পংকজ মণ্ডল, চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের অনেক ক্ষত আজ সময়ের সঙ্গে শুকিয়ে গেলেও ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাগেরহাটের চিতলমারী

2026-03-16T15:20:27+00:00
2026-03-16T15:20:27+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহন করছে খড়মখালীর হালদার বাড়ি
পংকজ মণ্ডল, চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৩:২০ পিএম   (ভিজিট : ৩৫২)
X

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের অনেক ক্ষত আজ সময়ের সঙ্গে শুকিয়ে গেলেও ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার খড়মখালী গ্রামের হালদার বাড়ির পুরনো ভবনটি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের গুরুত্বপূর্ণ ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল এই বাড়িটি। এখান থেকেই এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ কৌশল নির্ধারণ ও বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হতো। এখন সেই ভবনটি কেবলই ইতিহাসের স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে চিতলমারী এলাকায় কয়েকটি স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প গড়ে তোলা হয়। এর মধ্যে শিবপুর গ্রামের নিশি ডাক্তারের বাড়ি, সন্তোষপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন, রায় গ্রামের হালদার বাড়ি এবং খড়মখালী গ্রামের ষষ্টি চরণ হালদারের বাড়ি উল্লেখযোগ্য। এসব ক্যাম্প থেকেই মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

এর মধ্যে খড়মখালী গ্রামের হালদার বাড়ির ভবনটি ছিল প্রধান ক্যাম্প। এখান থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হতো এবং যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নির্ধারণ করা হতো।

স্থানীয়দের তথ্য মতে, ১৯৭১ সালের ২১ জুন পাকিস্থানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসররা চিতলমারীসহ আশপাশের এলাকায় জলপথ ও স্থলপথে আক্রমণ চালায়। সেদিন তারা অনেক নিরীহ মানুষকে হত্যা করে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বহু বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে। প্রাণ বাঁচাতে আশপাশের এলাকার মানুষ খলিশাখালী গ্রামের একটি মাঠের পাটক্ষেত ও হোগলা পাতার আড়ালে আশ্রয় নেয়। কিন্তু পাকিস্থানি বাহিনী তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে বহু মানুষ নিহত হন। পরবর্তীতে ওই স্থানটি খলিশাখালী বধ্যভূমি হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

ষষ্টি চরণ হালদারের ছোট ছেলে কালিদাস হালদার জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের দ্বিতল বাড়িটি মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তিনিও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তবে যুদ্ধকালীন কাগজপত্র স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের কাছে জমা দিলেও পরে আর তা ফেরত পাননি বলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। বর্তমানে বাড়িটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে এবং সংরক্ষণের জন্য দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

চিতলমারী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুতালেব শেখ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় এলাকায় ৪-৫টি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। এর মধ্যে খড়মখালী হালদার বাড়ির ক্যাম্পটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্যাম্পে মল্লিক শামছুল হকের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতেন। এছাড়া ক্যাপ্টেন তাইজুল ইসলাম সন্তোষপুর ক্যাম্পের নেতৃত্বে ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এই ভবনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy