
X
মোহাম্মদ রাকিব।
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলাম (রাকিব) হত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ বলছে, এক তরুণীকে ঘিরে বিরোধ এবং মাদক সংশ্লিষ্ট জটিলতা থেকেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হওয়ার জোরালো আশঙ্কা রয়েছে। তবে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করা গেলে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে শাহবাগ থানা পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহীদ মিনার এলাকায় রাকিবের ওপর হামলা চালায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত। প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। পরে গুলি করে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে শিহাব উদ্দিন নামে এক তরুণকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক শিহাব জানায়, এক তরুণীর ডাকে তিনি খুলনা থেকে ঢাকায় আসেন। রোববার সকালে ঢাকায় পৌঁছে বিকেল থেকে শহীদ মিনার এলাকায় অপেক্ষা করছিলেন। তবে ওই তরুণীর সঙ্গে তার দেখা হয়নি। সেখানে বসে থাকা তিন যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়, যারা টাকার বিনিময়ে একটি ছেলেকে মারধরের প্রস্তাব দেয়। শিহাবের দাবি, “শুধু ধরে রাখতে” বলা হলেও হামলার সময় তিনি ছুরিকাঘাতে অংশ নেন।
তিনি নিজেকে খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় বাসচালক বলে পরিচয় দিয়েছেন।
এদিকে নিহত রাকিবের স্ত্রী হাবিবা আক্তার অভিযোগ করেন, খুলনার এক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে ঘিরেই বিরোধের শুরু। বগুড়ায় এক অনুষ্ঠানে পরিচয়ের পর ওই নারী তাদের বাসায় যাতায়াত শুরু করেন। পরে রাকিব জানতে পারেন, তিনি ফোনে মাদক বহনের বিষয়ে কথাবার্তা বলতেন। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ওই নারী তার কথিত প্রেমিক সাজিদকে বিষয়টি জানান। এরপর থেকেই রাকিবকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
নিহতের মা রাজিয়া বেগম সন্তানের মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছেন। তিনি জানান, ঘটনার দিন বিকেলে ছেলে তার কাছে খাবার চেয়েছিল, কিন্তু রান্না শেষ না হওয়ায় অপেক্ষা করতে বললে সে বাসা থেকে বের হয়ে যায় আর ফেরেনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাকিব শেখ বুরহানউদ্দিন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২১ সালে তার বিয়ে হয় এবং তিনি ঢাকাতেই স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন।
সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাকিবের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বগল, পেট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষতের পাশাপাশি গুলির চিহ্নও পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, শহীদ মিনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে নারীকে ঘিরে দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত মিললেও এখনই চূড়ান্তভাবে মোটিভ বলা যাচ্ছে না। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।