নাটোরে মোটরসাইকেলের ইনডিকেটর লাইট ভাঙা নিয়ে সংঘর্ষে আবুল কালাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছেলে কাউসার আলী (২৫) ও শ্যালক শাহিন সজল আহত হয়েছেন।
সোমবার রাত দেড়টার দিকে শহরের কান্দিভিটুয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রতিবেশী হাফিজ উদ্দিন, তার মামাতো ভাই ইমন ও মামা আব্দুল হাইসহ তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্য ঘটনায় জড়িত।
জানা যায়, নিজ বাড়ির গলিতে মোটরসাইকেল রাখেন নিহতের ছেলে কাউসার আলী। একই গলি দিয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে আসবাবপত্র নিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলটির ইনডিকেটর লাইট ভেঙে যায়। এ নিয়ে প্রতিবাদের জেরে এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং আবুল কালাম খুন হন। আহত হন তার ছেলে কাউসার ও শাহিন সজল।
তাদেরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১ বছর আগে কান্দিভিটুয়া কদমতলা এলাকায় রং মিস্ত্রি আবুল কালামের বাড়ির পাশে অভিযুক্ত হাফিজ বাড়ি করলেও পৌরসভার নির্দেশনা অনুযায়ী রাস্তা রাখেন নাই। তারা কালামদের ব্যবহার করেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ ছিল। গত দুই দিন আগে নিজ বাড়ির গলিতে মোটরসাইকেল রেখে বাড়িতে যান কাউসার। ওই সময় একই গলি দিয়ে হাফিজের বাড়িতে আসবাবপত্র নেয়ার সময় কাউসারের মোটরসাইকেলের ইনডিকেটর লাইট ভেঙে যায়।
সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই বিষয়ে কথা বললে তর্কাতর্কির জেরে হাফিজের মামা আব্দুল হাই শাহিন সজলকে চড় মারেন। এ নিয়ে উভয় পরিবারে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। রাত দেড়টার দিকে বাড়ির পাশে কোরবানের চা দোকানে উভয় পক্ষ বিষয়টি নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে কাউসারদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করেন হাফিজ পরিবার। এসময়ে হাফিজের মামাতো ভাই ইমনসহ অন্যদের আক্রমণে আবুল কালাম, কাউসার ও শাহিন সজল আহত হন। স্থানীয়রা তাদেরকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসক রাজশাহী মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করেন। রাজশাহী নেওয়ার পথে আবুল কালাম মারা যান।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার জানান, লাশ দাফন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। মামলার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।