
X
সংগৃহীত ছবি
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, সাংবাদিকরা জাতির চতুর্থ স্তম্ভ রাষ্ট্র ও সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে তাদের ভূমিকা অপরিসীম।
তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনা একজন জনপ্রতিনিধিকে শুদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক হতে সহায়তা করে। আমি চাই, আপনারা আমার কাজের ভুল-ত্রুটি নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরবেন, যাতে আমি নিজেকে সংশোধনের সুযোগ পাই।”
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাতে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা প্রেসক্লাবের আয়োজনে প্রেসক্লাব হলরুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পদাধিকারবলে তিনি কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন।
উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক পাঠানের সঞ্চালনায় এবং সভাপতি শেখ শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত মোট ২৪ জন সাংবাদিক এতে অংশগ্রহণ করেন।
বক্তব্যের শুরুতেই ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাংবাদিকদের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, “মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তারা শুধু সংবাদ পরিবেশন করেন না, বরং সমাজকে দিকনির্দেশনা দেন, রাষ্ট্রকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করেন।”
তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। সমাজে কোথাও অনিয়ম, দুর্নীতি বা অব্যবস্থাপনা হলে সেটি সবার আগে সাংবাদিকদের চোখে পড়ে। তাই এই পেশার সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদেরকে অবশ্যই নিজেদের পেশার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ ও দায়বদ্ধতা রাখতে হবে।”
সাংবাদিকতার মান ও দায়িত্বশীলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই মহান পেশা একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সংগ্রাম ও নৈতিক অবস্থানের মাধ্যমে সাংবাদিকতা আজকের এই অবস্থানে এসেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কখনও কখনও কিছু ব্যক্তির ভুলের কারণে পুরো সাংবাদিক সমাজের প্রতি মানুষের আস্থা কিছুটা হলেও ক্ষুণ্ন হয়। এ জায়গা থেকে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। কোনো প্রকার প্রভাব বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সত্যকে তুলে ধরাই সাংবাদিকতার মূল শক্তি।”
নিজের দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “আমি যখন কাজ করি, তখন সব সময় যে নিখুঁত সিদ্ধান্ত নিতে পারব—তা নয়। অনিচ্ছাকৃত ভুল-ত্রুটি হতে পারে। সেই জায়গাগুলো আপনারা গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে তুলে ধরলে আমি নিজেকে সংশোধনের সুযোগ পাব।”
তিনি আরও বলেন, “গঠনমূলক সমালোচনা লেখনীর মাধ্যমে, ব্যক্তিগতভাবে কিংবা আলোচনার মাধ্যমেও হতে পারে। আমি চাই, আপনারা নির্ভয়ে সত্য কথা বলবেন এবং আমাকে ভুল পথে যেতে দেখলে সতর্ক করবেন। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনাদের কাছে এটাই আমার প্রত্যাশা।”
সাংবাদিকদের আত্মমর্যাদা ও পেশাগত স্বাধীনতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “শুধু মুখে স্বাধীনতার কথা বললেই হবে না, নিজের ভেতরেও সেই স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করতে হবে। যখন একজন সাংবাদিক নিজেকে স্বাধীনভাবে ভাবতে পারবেন, তখনই তিনি নির্ভয়ে সত্য কথা বলতে পারবেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, “সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা, যা শুধু জনগণকেই নয়, অনেক সময় রাজনীতিবিদ, আমলা এমনকি নীতিনির্ধারকদেরও দিকনির্দেশনা দেয়। তাই এই পেশার দায়িত্ব অনেক বড় এবং সম্মানও অনেক বেশি।”
সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরাও বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন এবং তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।