
X
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি, তবুও অধরা আসামিরা
দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী এস এ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. শাহাবুদ্দিন আলমসহ তার পরিবারের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে SAMANNAZ CONDENSED MILK LIMITED নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চেক জালিয়াতি ও কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা ব্যবসায়িক লেনদেনে প্রতারণা, চিনি সরবরাহের নামে অগ্রিম অর্থ গ্রহণ এবং পাওনা টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, SAMANNAZ CONDENSED MILK LIMITED নামক প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. শাহাবুদ্দিন আলম “হোসাইন অ্যান্ড ব্রাদার্স” প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন সময়ে চিনি ডিস্ট্রিবিউটর (ডিও) হিসেবে বিপুল অঙ্কের টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়ও চিনি সরবরাহ করেননি এবং পাওনা অর্থ ফেরত দেননি। একাধিকবার যোগাযোগ ব্যর্থ হওয়ায় ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান আদালতের দ্বারস্থ হয়। পরবর্তীতে শাহাবুদ্দিনের মালিকানাধীন একাধিক চেক ডিজ-অনার হওয়ায় আদালতে চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রথম গ্রেপ্তারি পরোয়ানা গত বছরের জুলাই মাসে জারি হলেও তা দীর্ঘদিন কার্যকর হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, অর্থ ও প্রভাব খাটিয়ে পরোয়ানা আটকে রাখা হয়েছিল। তবে বাদীপক্ষের ধারাবাহিক চাপের ফলে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সংশ্লিষ্ট থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় নামের তালিকায় রেয়েছেন, SAMANNAZ CONDENSED MILK LIMITED প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো: শাহাবুদ্দিন আলম (এস এ গ্রুপের মালিক), মিসেস ইয়াছমিন আলমের স্ত্রী (মালিকপক্ষ), ভাই মনজুর আলম (মালিকপক্ষ), ছেলে সাজ্জাদ আরেফিন আলম, শাহরিয়ার আরেফিন আলম (সন্তান), মিসেস লায়লা বেগম (মা)।
মামলার বাদী মো: হোসাইন, “হোসাইন অ্যান্ড ব্রাদার্স” এর প্রোপ্রাইটর, অভিযোগ করেছেন, আসামিদের সাথে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও তারা রিফাইন চিনি সংক্রান্ত লেনদেনের বিপরীতে প্রাপ্য অর্থ ফেরত দেয়নি। মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১২ সালের ২৯ মার্চ প্রথম লেনদেনের মাধ্যমে ঘটনা শুরু হয়। পরবর্তী পর্যায়ে, ২০১৩ সালের ৫ মার্চ এবং ২০১৯ সালের ৫ মার্চ লেনদেনের বিষয়ে আরও জটিলতা তৈরি হয়।
পাওনা টাকার নিশ্চয়তা হিসেবে শাহাবুদ্দিন আলম ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, অনলাইন শাখার একটি চেক (নম্বর ৬৬৭৫৪৬০) প্রদান করেন। চেক প্রদানের সময় SAMANNAZ CONDENSED MILK LIMITED প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার হিসেবে তার স্ত্রী মিসেস ইয়াসমিন আলম, ভাই মনজুর আলম ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৫ মার্চ থেকে ২০২২ সালের ৫ মার্চ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বাদী আসামিদের কাছে পাওনা টাকা দাবি করলে তারা সুসম্পর্কের দোহাই দিয়ে ও করোনা মহামারীর লকডাউনের অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন। পরবর্তীতে, ২০২৩ সালের ৫ মার্চ এবং ২০২৪ সালের ৫ মার্চ চতুর্থ পর্যায়ের ঘটনায় মৌখিক অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করা হয়নি। এসময় ভুক্তভোগীরা আসামিদের কার্যালয়ে গেলে তারা অনুপস্থিত ছিলেন।
শেষপর্যায়ে, ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে বন্দর থানাধীন কাস্টম গেটের সামনে রাস্তার ওপর ভুক্তভোগীরা আসামিদের মুখোমুখি হলে তারা লেনদেন অস্বীকার করেন এবং পাওনা টাকার নাম উচ্চারণ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
ইমিগ্রেশনে পাঠানোর আবেদন নথিতে বাদীপক্ষ আশঙ্কা প্রকাশ করে জানায়, অভিযুক্তরা দেশত্যাগ না করতে পারেন। এ কারণে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইমিগ্রেশনে পাঠানোর জন্য আদালতে পিটিশন করা হয়। তবে আদালত আবেদনটি নথিজাত করেন।
বাদীপক্ষ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পক্ষপাতহীন অবস্থান নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করতে হবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে গত আনুমানিক এক মাস আগে এস এ গ্রুপের মালিক শাহাবুদ্দিনের চট্টগ্রামের বাসায় খুলশি থানা পুলিশ একটি অভিযান পরিচালনা করেন তবে মাস পার হলেও এখনো তা গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়নি।
এ বিষয়ে জানতে খুলশি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, অভিযানের বিষয়টি সত্য তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। অভিযান চলাকালীন সময়ে আমি ছুটিতে ছিলাম তা ছাড়া আমি এই থানায় নতুন এসেছি। যতটুকু জানি অন্য এক থেকে খুলশি থানার সহোযোগিতা চেয়েছে তাই আমরা উপস্থিত ছিলাম।
তবে খুলশি থানা থেকে অভিযানের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে এস গ্রুপের মালিকের সাথে যোগাযোগ করলে প্রতিবেদকের পরিচয় জানতে চান এবং সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি ব্যাস্ততার অজুহাতে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।