বিক্রি না হওয়ায় সংকটে মধ্যপাড়া পাথর খনি, উৎপাদন বন্ধের শঙ্কা

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ পাথর বিক্রি না হওয়ায় বড় সংকটে পড়েছে। স্ট্যাক ইয়ার্ডে লাখ

2026-03-31T16:10:14+00:00
2026-03-31T16:10:14+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
বিক্রি না হওয়ায় সংকটে মধ্যপাড়া পাথর খনি, উৎপাদন বন্ধের শঙ্কা
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৪:১০ পিএম   (ভিজিট : ১০৭)
X

দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ পাথর বিক্রি না হওয়ায় বড় সংকটে পড়েছে। স্ট্যাক ইয়ার্ডে লাখ লাখ টন পাথর জমে থাকায় এক মাসের মধ্যেই খনিটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

খনি সূত্রে জানা গেছে, খনির ২৫টি স্ট্যাক ইয়ার্ডে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন পাথর অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ৪০-৬০ মিলিমিটার আকারের ব্যালাস্ট পাথর, যা মূলত বাংলাদেশ রেলওয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু রেলওয়ের ক্রয় কমে যাওয়ায় প্রায় ৮ লাখ ৬৭ হাজার টন পাথর বিক্রি হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে দেশীয় পাথরের পরিবর্তে ভারত ও ভুটান থেকে আমদানিকৃত পাথরের ব্যবহার বেড়েছে। এতে দেশীয় পাথরের বাজারে ভাটা পড়েছে। মধ্যপাড়ার প্রধান ক্রেতা বাংলাদেশ রেলওয়ে ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। কিন্তু এই দুই সংস্থার ক্রয় কমে যাওয়ায় বিক্রি প্রায় স্থবির হয়ে গেছে।

খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এম জোবায়েদ হোসেন বলেন, উৎপাদনের তুলনায় বিক্রি না হওয়ায় স্ট্যাক ইয়ার্ড দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে খুব শিগগিরই উৎপাদন বন্ধ করতে হতে পারে।

সংশ্লষ্টরা বলছেন সংকটের আরেকটি বড় কারণ পরিবহন সমস্যা। খনি থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার রেললাইন দীর্ঘদিন ধরে অকেজো পড়ে আছে। ফলে কম খরচে পাথর পরিবহন সম্ভব হচ্ছে না। সড়কপথে পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ায় পাথরের দামও বেড়ে যাচ্ছে, যা আমদানিকৃত পাথরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বাধা সৃষ্টি করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেললাইনটি দ্রুত সংস্কার করা গেলে পরিবহন খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

এদিকে উৎপাদন খরচও বেড়েছে। রয়্যালটি বৃদ্ধি এবং বিস্ফোরক দ্রব্যের ওপর উচ্চ শুল্ক এর অন্যতম কারণ। তবে খনি সুত্রে জানাগেছে খনিটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) ২০১৪ সালের চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত ব্যয়েই পাথর উত্তোলন করে যাচ্ছে, যদিও বিদ্যুৎ, যন্ত্রপাতি ও শ্রমিক খরচ অনেক বেড়েছে।

জানা গেছে, জিটিসি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত এক দশকে খনির উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে যেখানে কুরিয়ান নামনাম কোম্পানী প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৭০০ টন পাথর উত্তোলন করতো, এখন সেখানে দৈনিক প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টন পাথর উৎপাদন করছে জিটিসি। এর ফলে ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে খনিটি লাভজনক অবস্থায় যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিক্রি কমে যাওয়ায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আবার লোকসানে পড়েছে খনিটি।

অন্যদিকে, দেশে উৎপাদিত খনিতে বিপুল পরিমাণ পাথর অবিক্রীত থাকলেও বিদেশ থেকে পাথর আমদানি কমেনি। বাংলাদেশে বছরে পাথরের চাহিদা প্রায় ২ থেকে ২.৫ কোটি টন। এর বড় অংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ২ কোটি ৪৮ লাখ টন পাথর আমদানি হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরেও প্রায় একই পরিমাণ পাথর আমদানি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপাড়ার পাথরের গুণগত মান অনেক ভালো—প্রায় ২৫ হাজার পিএসআই চাপ সহ্য করতে সক্ষম। এই পাথরের ব্যবহার বাড়ানো গেলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সংকট কাটাতে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি প্রকল্পে দেশীয় পাথর ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা, আমদানিকৃত পাথরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য নির্ধারণ, বিস্ফোরক দ্রব্যের ওপর শুল্ক কমানো এবং অকেজো রেললাইন দ্রুত সংস্কার করা। এসব উদ্যোগ নেওয়া গেলে সম্ভাবনাময় এই খনি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy