পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হওয়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শুরুতেই অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে বিতর্কের মুখে পড়েছে।
নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুসরণ না করা, নিম্নমানের খাবার সরবরাহ এবং ওজন কম থাকা নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে “গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা” নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। উপজেলার ১৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য সপ্তাহে পাঁচ দিন খাবার সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গত রোববার (২৯ মার্চ) কর্মসূচির উদ্বোধনী দিনে শিক্ষার্থীদের প্যাকেটজাত বনরুটি ও ডিম দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ ওঠে, নির্ধারিত ৬০ গ্রাম সিদ্ধ ডিমের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রেই ছোট আকারের ডিম বিতরণ করা হয়েছে, যার ওজন ছিল মাত্র ৪০ থেকে ৪২ গ্রাম।
পরদিন সোমবার (৩০ মার্চ) খাদ্যতালিকা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য ১২০ গ্রাম বনরুটি ও ২০০ মিলিলিটার দুধ দেওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ে দুধ সরবরাহ করা হয়নি। এর পরিবর্তে দেওয়া হয়েছে বনরুটি ও কলা। শিক্ষকরা জানান, সরবরাহকৃত কলার একটি বড় অংশ ছিল আধাপাকা, পঁচা কিংবা কালো দাগযুক্ত, যা শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী নয়।
নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী, রোববার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম, সোমবার বনরুটি ও দুধ এবং মঙ্গলবার ফোর্টিফায়েড বিস্কুটের সঙ্গে কলা বা মৌসুমি ফল দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এই তালিকার সঙ্গে সরবরাহকৃত খাবারের মিল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার একাধিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, কর্মসূচির শুরুতেই সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এক প্রধান শিক্ষিকা বলেন, “কলা অনেকটাই নিম্নমানের ছিল, আর আগের দিনের ডিমও প্রত্যাশিত মান বজায় রাখতে পারেনি।”
দক্ষিণ কামারকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার দাস বলেন, “সোমবার দুধ দেওয়ার কথা থাকলেও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জানায় দুধ নেই। ফলে তালিকার বাইরে গিয়ে কলা দেওয়া হয়েছে, যা পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
এ বিষয়ে বাস্তবায়নকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একযোগে বিপুলসংখ্যক বিদ্যালয়ে খাদ্য সরবরাহের কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। পরিবহনজনিত কারণে কলার মানে কিছু ঘাটতি থাকতে পারে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার জসিম আহমদ বলেন, “দুধ সরবরাহে কিছু জটিলতা রয়েছে। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। খাদ্যতালিকায় কোনো অনিয়ম থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”
কর্মসূচির শুরুতেই এমন অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দ্রুত তদারকি জোরদার করে মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা না হলে কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।