
X
প্রতীকী ছবি
পাবনার ঈশ্বরদীতে ১২ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও ঘটনা ধামাচাপা দিতে উল্টো ওই কিশোরী এবং তার পরিবারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মোঃ আব্দুল (৫৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
গত রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুর ১২ টার দিকে পৌর শহরের কৃষি প্রশিক্ষন ইনস্টিটিউট সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে ধামাচাপা দিতে এলাকার প্রভাবশালী কিছু লোকজন ওই কিশোরী ও তার পরিবারকে ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করে মারধর করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর পরিবার থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত ধর্ষক মোঃ আব্দুল ঈশ্বরদী কৃষি প্রশিক্ষন ইনস্টিটিউট সংলগ্ন দুলালের মুরগির খামারে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ভুক্তভোগী কিশোরীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালে ব্যক্তিগত কাজে ওই কিশোরীর মা তাকে বাসায় রেখে বাহিরে যায়। কিছু সময় পরে কিশোরীর পোষা একটি বিড়াল তাদের নতুন নির্মানাধীন বাড়ির একটি কক্ষে গেলে সেই বিড়ালকে সেখানে ধরে আনতে যান ওই কিশোরী। এসময় নির্মানাধীন বাড়ির দেয়াল গাঁথুনির খোলা জানালা দিয়ে প্রবেশ করে একা পেয়ে ভুক্তভোগী কিশোরীকে জাপটে ধরে মুখ চেপে ধরে লম্পট আব্দুল।
পরে কিশোরী চিৎকারের চেষ্টা করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার হুমকি দিয়ে সেখানেই ধর্ষণ কাজ সম্পন্ন করেন লম্পট আব্দুল। এসময় ধস্তাধস্তির শব্দ টের পেয়ে স্থানীয় বিপ্লব (ঘটক) নামে একজন উপস্থিত হয়ে ধর্ষক আব্দুলকে আটক করে এলাকাবাসীকে ডাক দেন। পরে এলাকার কয়েকজন ভুক্তভোগী কিশোরী ও ধর্ষক আব্দুলকে নিয়ে স্থানীয় রফিকুল ইসলামের বাড়ির সামনে নিয়ে যান।
এসময় রফিকুল, শাহজাহান বাবুর্চি এবং বৃষ্টি খাতুন নামে কয়েকজন প্রভাবশালী ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে ভুক্তভোগী কিশোরীকে মারধর করে ঘটনাটি কাউকে না জানানো মর্মে শিকারোক্তি নেন। ঠিক এসময় ওই কিশোরীর মা কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে অনেক লোকজন দেখে এগিয়ে গিয়ে জানতে পারে তার মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক তিনি পাশে পড়ে থাকা একটি লাঠি দিয়ে ধর্ষক আব্দুলকে কয়েকটি আঘাত করলে উল্টো সেই লাঠি কেড়ে নিয়ে প্রভাবশালী প্রতিবেশী রফিকুল ঘটনাটি গোপন রাখতে আবারো ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার মাকে মারধর করে। পরে সন্ধ্যার পর রফিকুল ও শাহজাহান বাবুর্চিসহ স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন প্রভাবশালী ওই কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে পুরো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টা করলে তা অস্বীকার করেন ভুক্তভোগী কিশোরীর পিতা। পরে তারা ওই কিশোরীর পরিবারকে ঘরবাড়ি ভেঙে এলাকা থেকে উচ্ছেদের হুমকি দিলে উপায়ন্তর না পেয়ে ভুক্তভোগী কিশোরীর পিতা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয় বিপ্লবের (ঘটক) সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হলে তিনি বলেন, ঘটনাটি দেখে আমি এলাকার লোকজনকে জানায়। পরে তারা মেয়েটিকে ঘটনার স্বীকারোক্তির নাম করে মারধর করে ঘটনাটি কাউকে বলতে বারন করে। এলাকাভিত্তিক সমাধানের কথা ভেবে আমি আর প্রশাসনকে অবগত করি নাই।
ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে ভুক্তভোগী ধর্ষনের শিকার সেই কিশোরী ও তার মাকে মারধর করা প্রভাবশালী রফিকুলের বক্তব্য নিতে তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি তবে পাশেই তার শ্বশুরবাড়ি। রফিকুলের শ্বশুর মোঃ আমিন হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। সন্ধ্যার পর আমার জামাই এসে আব্দুলকে এখানে রেখে যান আবার রাত ১১ টার দিকে নিয়ে যান। এ ব্যাপারে আগে থেকে অবগত না থাকায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়নি।
ভুক্তভোগী কিশোরীর মা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমি বাড়িতে থাকলে হয়তো আমার মেয়ের এমন সর্বনাশ হতনা। আমি এ ঘটনায় লম্পট আব্দুলের ফাঁসি চাই। বর্তমানে তাদের বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শনে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি।
ঈশ্বরদী থানার ওসি মোঃ মমিনুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় একটি ধর্ষণ চেষ্টার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এলাকার লোকজন অভিযুক্তকে মারধর করে এলাকা থেকে বের করে দেওয়ার কারনে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আর ভুক্তভোগীর পরিবারকে মারধর ও উচ্ছেদ করার বিষয়টি জানা নেই। এমন কিছু যদি হয়ে থাকে তবে সে ব্যাপারেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।