প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৯ এএম আপডেট: ০১.০৪.২০২৬ ১১:৫৫ এএম (ভিজিট : ২০৭)

X
বাগেরহাটের চিতলমারীতে ভাইরাসজনিত পচন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে গবাদি পশু। এলাকার বিভিন্ন খামারী ও গৃহস্থের গোয়ালের গবাদি পশু এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তরে এ রোগের পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন না থাকায় চিকিৎসা করাতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে। রোগটি এলাকায় সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে অনেক খামারিরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। বিষয়টি প্রতিকারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত সহযোগিতা কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, গ্রীষ্মের শুরুতে এলাকার অনেক গবাদি পশুর দেহে লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাস নামে একটি ভয়াবহ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এ রোগে গবাধি পশুর দেহে পচন ধরে যাচ্ছে এবং খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ফলে আক্রান্ত পশুরা কোন খাদ্য গ্রহন করছে না। এমনকি উঠে দাাঁড়ানোর শক্তি পাচ্ছে না দেহে। অনেক বাড়িতে দেখা গেছে, আক্রান্ত পশুর নিথর দেহ পড়ে আছে। এ সকল পশুর ঠিকমত চিকিৎসা না হওয়ায় অনেক স্থানে মারা যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এ রোগ ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান অনেকে।
উপজেলার শ্যামপাড়া গ্রামের বাসিন্দা অসিম মণ্ডল জানান, গত কয়েকদিন ধরে তার গোয়ালের একটি গবাধি পশু এ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে ছিল। সেটিকে অনেক চিকিৎসা করেও কোন ভাবে বাঁচানো যায়নি। এ রোগে পশুর দেহের অনেক অংশ পচন ধরেিেছল এবং প্রচণ্ড জ্বর থাকত সবসময়। এ অবস্থায় খুবই যন্ত্রণায় ছাটপট করতে করতে পহেলা এপ্রিল বুধবার সকালে গরুটি মারা গেছে। লাখ টাকার উপরে এটির দাম ছিল। দরিদ্র একজন কৃষকের জন্য এ ধকল কাটিয়ে ওঠা কঠিন বলেও হতাশা ব্যক্ত করেন। এছাড়া ওই গ্রামের স্বপন মণ্ডলের একটি গাভী এ রোগে মারা গেছে। আরো অনেকের পশু আক্রান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ব্রহ্মগাতী গ্রামের আশ্বাব শেখ জানান, তাদের প্রতিবেশি সেকেন্দার হাওলাদার, বক্কর শেখসহ অনেকের গবাধি পশু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। উপজেলার উমাজুড়ি গ্রামের অগূর্ব হীরা জানান, তাদের গোয়ালের একটি পশু আক্রান্ত হয়েছে। সেটিকে চিকিৎসা করাচ্ছেন। এছাড়া তাদের প্রতিবেশি শশধর হীরার একটি পশু আক্রান্ত হবার খবর জানান তিনি। ধলইতলার বাসিন্দা আবু সাইদ শেখ জানান, তার একটি গবাধি পশু এ রোগে আক্রন্ত হয়েছে। এলাকার অনেকে জানান, এ রোগটি চিতলমারী ও তার আশপাশের উপজেলায়ও দেখা দিয়েছে এমনটি খবর এসেছে তাদের কাছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মো. আহম্মেদ ইকবাল জানান, এ রোগটির নাম লাম্পি স্কিন ডিজিজ। এটি একটি ভাইরাস জনিত চর্মরোগ। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গবাদি পশু এ রোগে সংক্রমিত হবার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে এ রোগের ভ্যাকসিন তাদের কাছে কোন মজুদ নেই। যেটি ছিল সেটি অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে। ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য তৎপরতা চালানো হচ্ছে।