এসএসসি পরীক্ষায় নকল ঠেকাতে আসছে ‘ক্যামেরা ট্র্যাকিং’

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা

শিক্ষাব্যবস্থার শুদ্ধিকরণ ও মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিতে নতুন এক কঠোর অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ২১ এপ্রিল

2026-04-01T20:10:55+00:00
2026-04-01T20:10:55+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
এসএসসি পরীক্ষায় নকল ঠেকাতে আসছে ‘ক্যামেরা ট্র্যাকিং’
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১০ পিএম   (ভিজিট : ৬১)
ফাইল ছবি
X

ফাইল ছবি

শিক্ষাব্যবস্থার শুদ্ধিকরণ ও মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিতে নতুন এক কঠোর অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় নকল নির্মূল এবং প্রশ্ন ফাঁস রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এই নীতির আওতায় শুধু পরীক্ষার্থীরাই নয়, কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে ডিজিটাল ট্র্যাকিং, সিসিটিভি নজরদারি এবং প্রশ্নপত্রের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের পাবলিক পরীক্ষা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের ছাড় দিচ্ছে না। সেই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবার খাতায় কোনো ধরনের ‘গ্রেস মার্ক’ বা অনুকম্পার সুযোগ থাকবে না; শিক্ষার্থীরা যা লিখবে, তার ভিত্তিতেই প্রকৃত নম্বর প্রদান করা হবে। মেধার এই লড়াইকে স্বচ্ছ করতে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রকে আনা হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরার কঠোর নজরবন্দিতে। শুধু ক্যামেরা স্থাপনই নয়, ধারণকৃত ফুটেজ প্রতি সাত দিন অন্তর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় নকল ও প্রশ্ন ফাঁস রোধে সরকার কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। মেধার প্রকৃত মূল্যায়নে ডিজিটাল ট্র্যাকিং, সিসিটিভি নজরদারি এবং বিশেষ ‘ফয়েল প্যাক’ ও ‘ওয়ান টাইম’ সিকিউরিটি খামের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ী কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক চাকরিচ্যুতির মতো নজিরবিহীন কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, প্রশ্নপত্র সুরক্ষায় এবার প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিজি প্রেস থেকে প্রশ্নগুলো প্রথমে বিশেষ ‘ফয়েল প্যাকে’ এবং পরবর্তীতে একটি ‘ওয়ান টাইম’ সিকিউরিটি খামে ভরা হচ্ছে। এই খামটি এমনভাবে তৈরি যে, একবার খোলা হলে তা আর পুনরায় লাগানো সম্ভব নয়। ট্রেজারি থেকে প্রশ্ন কেন্দ্রে নেওয়ার সময় একজন ট্যাগ অফিসার সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকবেন এবং পরীক্ষা শুরুর মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে সবার উপস্থিতিতে খাম খোলা হবে। ফলে প্রশ্ন ফাঁসের চিরাচরিত ছিদ্রপথগুলো এবার পুরোপুরি বন্ধ হতে যাচ্ছে।

পরীক্ষা কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার পরীক্ষার্থীদের ওপর থাকছে কঠোর বিধিনিষেধ। কোনো পরীক্ষার্থীই নিজ প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিতে পারবে না। কেন্দ্রে প্রবেশের আগে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিবিড় ‘নিরাপত্তা চেক’ পার হতে হবে। পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে; নারী পরীক্ষার্থীদের তল্লাশির জন্য নারী শিক্ষকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া, কেন্দ্রসচিব ব্যতীত অন্য কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।

পরীক্ষার আগে গুজব ও ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে সাইবার নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে যারা সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক জেল-জরিমানাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিশেষ শাখা সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে।

প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্র ও কক্ষকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করা হয়েছে, যার ফুটেজ নিয়মিত শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ১১টি বিশেষ নির্দেশনা জারি করে পরীক্ষা শুরুর আগেই সব ক্যামেরা সচল করা এবং কেন্দ্রে প্রবেশের আগে পরীক্ষার্থীদের নিবিড় দেহ তল্লাশি বাধ্যতামূলক করেছে। এছাড়া, কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো পরীক্ষার্থীই নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে না।





Loading...
Loading...


শিক্ষা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy