প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৬ পিএম (ভিজিট : ১০৮)

X
ফাইল ছবি
পাম্পে দীর্ঘ লাইন, কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, তবুও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি। এমন পরিস্থিতিতে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা এই সময়ে অনেকেই পেট্রোলের বিকল্প ভাবছেন। এ ক্ষেত্রে অকটেনকে বেছে নিচ্ছেন তারা। তাদের দাবি, অকটেন মানেই বেশি শক্তিশালী বা ভালো জ্বালানি।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই দুই ধরনের জ্বালানির পার্থক্য, ব্যবহার এবং কার্যকারিতা নির্ভর করে বাইকের ইঞ্জিন ও ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী। ভুল জ্বালানি ব্যবহারে যেমন বাড়তে পারে খরচ, তেমনি কমে যেতে পারে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা ও স্থায়িত্বও। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পেট্রোল ও অকটেন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।
বাংলাদেশে প্রচলিত ভাষায় ‘পেট্রোল’ ও ‘অকটেন’ আলাদা জ্বালানি হিসেবে পরিচিত হলেও, প্রকৃতপক্ষে উভয়ই একই ধরনের জ্বালানি। আন্তর্জাতিকভাবে এটি গ্যাসোলিন নামে পরিচিত। রাসায়নিকভাবে এগুলোর গঠন প্রায় একই। পার্থক্যটি মূলত অকটেন রেটিং বা মানে।
আন্তর্জাতিকভাবে জ্বালানিকে অকটেন নম্বর (RON-রিসার্চ অকটেন নম্বর) অনুযায়ী ভাগ করা হয়। সাধারণত এই মান ৮৬ থেকে শুরু হয়ে ৯১, ৯৫ বা তার বেশি হতে পারে। বাংলাদেশে পেট্রোল সাধারণত নিম্ন অকটেন মানের (প্রায় ৮০-৮৫), আর অকটেন হিসেবে পরিচিত জ্বালানি উচ্চ অকটেন মানের (৯০-৯৫) হয়।
অকটেন মান যত বেশি, জ্বালানিটি তত বেশি চাপ (কম্প্রেশন) সহ্য করে দেরিতে জ্বলে। ফলে ইঞ্জিনে ‘নকিং’ বা অস্বাভাবিক শব্দ কম হয় এবং কম্বাশন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত থাকে।
যদি আপনার বাইক সাধারণ মানের বা কম ক্ষমতার (স্ট্যান্ডার্ড) হয়, তাহলে পেট্রোলই যথেষ্ট। এটি সহজলভ্য এবং তুলনামূলকভাবে সস্তা। দৈনন্দিন যাতায়াত বা স্বল্প দূরত্বের ব্যবহারে পেট্রোল ব্যবহার করলে পারফরম্যান্সে তেমন কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না। এ ধরনের বাইকে উচ্চ অকটেন ব্যবহার করলেও বাড়তি সুবিধা খুব একটা পাওয়া যায় না। বরং অপ্রয়োজনীয় খরচ বেড়ে যেতে পারে।
উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বা হাই-কম্প্রেশন ইঞ্জিনের বাইকের জন্য অকটেন বেশি উপযোগী। স্পোর্টস বা নতুন মডেলের বাইকে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা ঠিক রাখতে এবং নকিং কমাতে উচ্চ অকটেনের জ্বালানি কার্যকর ভূমিকা রাখে। এছাড়া ইঞ্জিনে যদি ঝাঁপ বা অস্বাভাবিক শব্দের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে উচ্চ অকটেনের জ্বালানি তা কমাতে সাহায্য করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ইঞ্জিনের আয়ু বাড়াতেও সহায়ক হতে পারে।