
X
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে পাওয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর অন্যের কাছে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বড়ঘোপ মিয়ার ঘোনার প্রকল্পের থাকা উপকারভোগী মোতাহারা বেগম, রুমা বেগমের বিরুদ্ধে।
রীতিমতো দলিল করে ঘর বিক্রি করেছেন বলে বাকি উপকারভোগীদের অভিযোগ। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়েই চলছে এসব ঘর বেচাকেনা।
সরেজমিনে বড়ঘোপ মিয়ার ঘোনা গিয়ে দেখা যায়, মিয়ার ঘোনার প্রকল্পের ২২ টি ঘরে মধ্যে থাকেন ৯ টি উপকারভোগী৷ এ ৯টি উপকারভোগীর মধ্যে রয়েছে ভাড়াটিয়াও। অন্যদিকে মোতাহারা বেগম, রুমা আকতার ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে উপহারের ঘরে বিক্রি করেছে এমন অভিযোগ করেছেন আশ্রয় প্রকল্পে থাকা উপকারভোগীরা। তবে, ঘর পেয়েছেন একজন, ভাড়ায় থাকেন অন্যজন। উপজেলার বাইরের লোককেও আশ্রয়ণ প্রকল্পে অন্যের বরাদ্দ পাওয়া ঘরে বসবাস করতে দেখা গেছে। অনেক উপকারভোগী মাঝে মধ্যে এসে ঘরে কিছুক্ষণ অবস্থান করে পুণরায় চলে যান এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে সরজমিনে।
অন্যদিকে, ঘর বিক্রির অভিযোগ যাচাই করতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মোতাহারা বেগমের ঘরে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে থাকছেন আত্মীয় পরিচয় দেওয়া নুসরাত জাহান তানিয়া নামে এক নারী। তিনি জানান, তার বাড়ি না থাকায় তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। ক্রয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। অন্যদিকে, রুমা আকতারের ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়।
এবিষয়ে স্থানীয় বড়ঘোপ মিয়ার ঘোনা এলাকার বাসিন্দা তমিজ উদ্দিন জানান, ওই স্থানে ২২টি ঘরের মধ্যে কয়েকটি তালাবদ্ধ আরকিছু ভাড়ায়। আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকা রাতে ভুঁতুড়ে পরিবেশে পরিণত হয়। মাদকসেবনকারীদের আনাগোনা দেখা যায়। আশ্রয়ণ প্রকল্পে পরিবার নিয়ে একা বসবাস করায় অনেকে সব সময় আতংকের মধ্যে থাকছে।
এছাড়া, স্থানীয় ইউপি সদস্য আজিজুল হক বলেন, মিয়ার ঘোনা না সব জায়গায় একাই রকম। দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান তিনি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইকবাল হাসান জানান, বরাদ্দ দেয়া ঘরের উপকারভোগীদের তালিকা তদারকি করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা। এছাড়া ভূমি অফিস তাদের দেয়া তালিকার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরগুলো বরাদ্দ দেয়।
কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুর রহমান জানান, তার নতুন কর্মস্থল হওয়াতে বিষয়টি অবগত না। তবে, যেসব উপকারভোগী আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোতে থাকে না এবং বিক্রি করা দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ আঃ মান্নান সাথে কথা হলে তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেন তিনি ব্যবস্থা নিবেন।
উল্লেখ্য, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে কুতুবদিয়ায় ১৭৮ টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে আলী আকবর ডেইল ১০টি,কৈয়ারবিল ১৪টি,বড়ঘোপ ১১০টি,লেমশীখালী ২টি,দক্ষিণ ধুরুং ৩৪টি, উত্তর ধুরুং ১৮টি।