৪৬ মৃত্যু: আগুনের পর ভেতরে কাস্টমার রেখে বাইরে তালা দেয় ‘কাচ্চি ভাই’!

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী

বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জন মৃত্যুর ঘটনার দুই বছর পর

2026-04-03T16:27:19+00:00
2026-04-04T17:58:40+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
৪৬ মৃত্যু: আগুনের পর ভেতরে কাস্টমার রেখে বাইরে তালা দেয় ‘কাচ্চি ভাই’!
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৭ পিএম  আপডেট: ০৪.০৪.২০২৬ ৫:৫৮ পিএম  (ভিজিট : ১১৫২)
বেইলি রোডের কাচ্চি ভাই
X

বেইলি রোডের কাচ্চি ভাই

বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জন মৃত্যুর ঘটনার দুই বছর পর তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)।

ঘটনার দুই বছর পর তদন্ত শেষে আদালতে দেয়া অভিযোগপত্রে সিআইডি উল্লেখ করে, রাত দশটার কাছাকাছি সময়ে আগুনের সূত্রপাত হওয়ার পর কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক জিসানের নির্দেশে দরজা বাইরে থেকে লাগিয়ে দেয়া হয়েছিল যেন গ্রাহকদের কেউ বিল না দিয়ে বের হতে না পারেন।

এই ঘটনায় সেই রেস্টুরেন্টে থাকা অধিকাংশ গ্রাহকই ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে এবং পরে আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান। এ ছাড়া ভবনটিতে নিয়ম না মেনে একাধিক রেস্টুরেন্ট চালানো, সিঁড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার রেখে দেয়া, জরুরি নির্গমন পদ না থাকা সহ অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের নানা কারণ উঠে এসেছে।


জানা গেছে, ২৯ ফেব্রুয়ারি লিপইয়ার উপলক্ষে ছাড় দেয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভিড় হয়েছিল গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে অবস্থিত কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে।
 
সিএমএম কোর্টের অতিরিক্ত পিপি মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জানান, গ্রাহকরা যাতে বিল পরিশোধ না করে বের হয়ে না যেতে পারেন সেজন্য রেস্টুরেন্টটির গেট আটকে দেন তারা। গেট আটকে দেয়ার কারণে বেশিরভাগই ধোঁয়ায় মুমূর্ষু অবস্থায় পড়েছিলেন। পরবর্তীতে আগুনের ভয়াবহতায় মৃত্যুবরণ করেন।

এদিকে এ ঘটনায় উঠে এসেছে আরও নানা অভিযোগ। আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন তলায় থাকা কিছু মানুষ ছুটে যান ছাদের দিকে। কিন্তু ভবনের আটতলা ও ছাদ মিলে অবৈধভাবে ‘ডুপ্লেক্স রেস্টুরেন্ট’ থাকায় সেখানে গিয়েও আশ্রয় নিতে পারেননি তারা।

এক পর্যায়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসারও প্রাণপণ চেষ্টা করেন অনেকে। কিন্তু সিঁড়িতে খাবারের দোকানের গ্যাস সিলিন্ডারসহ নানা জিনিসপত্র রেখে তৈরি করা হয়েছিল নানা প্রতিবন্ধকতা।
 
মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জানান, ভবনটির বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত সিলিন্ডার ছিল। বহির্গমনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।

এসব ‘অব্যবস্থাপনার জালে’ আটকা পড়ে রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনের আগুনে সেদিন ৪৬ জন মারা গিয়েছিলেন। এদের মধ্যে আগুনে পুড়ে তিনজন এবং ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা যান ৪৩ জন।
 
অভিযোগপত্রে ভবনটির নিচতলায় চায়ের চুমুক কফি শপের বৈদ্যুতিক কেটলি থেকে আগুনের সূত্রপাতের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। ভবনের মালিকপক্ষ আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রমজানুল হক নিহাদসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে সিআইডি।
 
বাকিরা হলেন- আনোয়ারুল হক (২৯), মুন্সি হামিদুল আলম বিপুল (৪০), মো. সোহেল সিরাজ (৩৪), ইকবাল হোসেন কাউসার (৫০), জেইন উদ্দিন জিসান (২৯), মোহর আলী পলাশ (৫০), মো. ফরহাদ নাসিম আলীম (৫৫), আবদুল্লাহ আল মতিন (৩৫), মো. নজরুল ইসলাম খান (৫০), লতিফুর নেহাব (৬৫), খালেদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ (৫৫), অঞ্জন কুমার সাহা (৫৫), মো. মুসফিকুর রহমান (৩১), জগলুল হাসান (৬৫), আশিকুর রহমান (৩৫), হোসাইন মোহাম্মদ তারেক (৪১), রাসেল আহম্মেদ (৩২), মো. সাদরিল আহম্মেদ শুভ (৩২), রাফি উজ-জাহেদ (৩৪), আদিব আলম (৩৯) ও  শাহ ফয়সাল নাবিদ (৩৪)। তাদের মধ্যে গ্রেফতারের পর জামিনে আছেন ৯ জন, বাকিরা পলাতক।





Loading...
Loading...


রাজধানী এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy