প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৭ পিএম (ভিজিট : ৬৪)

X
সংবাদ সম্মেলন
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় রাতের আঁধারে মোহাম্মদ শাহ আলম নামে এক ব্যবসায়ীর বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের কেরানীহাটে অবস্থিত একটি রেস্টুরেন্টের হলরুমে ভুক্তভোগী পরিবারের ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহ আলম। এ সময় তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি সাতকানিয়া উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদের পাড়ার বাসিন্দা। চট্টগ্রাম নগরীতে আমার ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে আমি বাড়িতে না থাকার সুবাদে সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক এবং ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইলিয়াছ চৌধুরীর ইন্ধনে আমাদের এলাকার ফরিদ মিয়া, ভোলা চক্রবর্তী, আশিক, শহিদ উদ্দিন, সুমন, হানিফ, সাজ্জাদ, মামুন, আমির হোসেন, ফয়সাল, দেলোয়ার, আবদুল মন্নান, ইফতেখার ও মিজানসহ অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন লোক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার বসতঘরে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এ সময় তারা বসতঘরের ভেতর প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ ১ লক্ষ টাকা ও প্রায় ১৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। তারা হামলার পূর্বে আমাদের আশেপাশের বেশ কয়েকটি বসতঘরের দরজার বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয়। প্রতিবেশীরা যাতে আমার পরিবারের সদস্যদের উদ্ধারে এগিয়ে আসতে না পারে সেজন্য তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এসব বসতঘরের বাইরে তালা লাগিয়ে দিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, আমার বড় ভাই আকতার আহমদের সহধর্মিনী মরিয়ম বেগম ও ছোট ভাই মোরশেদ আলমের সহধর্মিনী তছলিমা আকতার হামলাকারীদের বাধা দিলে তাদেরকে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা নেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে সাতকানিয়া থানা পুলিশকে অবগত করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের পাশাপাশি হামলাকারীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইলিয়াছ চৌধুরীর ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বিগত ১ বছর ধরে ব্যবসায়িক কারণে চট্টগ্রাম নগরীতে বসবাস করছি। তেমন একটা গ্রামে যাওয়া হয় না। মোহাম্মদ শাহ আলম পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সামাজিকভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন।
সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঞ্জুরুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।