দুর্ভোগ লাঘবে নতুন দুইটি আন্তঃনগর ট্রেন সংযোজনের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। অন্যদিকে নিম্নআয়ের মানুষকে ৪-৫ গুণ বেশি দামে কালোবাজারিদের কাছ থেকে টিকিট কিনতে হচ্ছে।
সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এ অঞ্চলের মানুষ রেলপথের ওপর বেশি নির্ভরশীল। যদিও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সড়ক উন্নয়ন হয়েছে, ইসলামপুরে সড়ক এখনো সরু ও বাঁকানো থাকায় যান চলাচল কষ্টসাধ্য।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটে বর্তমানে তিস্তা এক্সপ্রেস, ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস এবং দুটি কমিউটার ট্রেন চলাচল করছে। কিন্তু যাত্রীসংখ্যা আসনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় সেবার মান ভেঙে পড়েছে।
মাত্র ২১২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে বর্তমানে ট্রেনের সময় লাগছে প্রায় ৭ ঘণ্টা। অথচ ১৯৮৫ সালে আন্তঃনগর ট্রেন চালুর সময় একই পথে সময় লাগতো মাত্র ৪ ঘণ্টা। রেললাইন দুর্বল হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রেন ধীরগতিতে চলাচল করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে ২০১৪ সালে ময়মনসিংহ থেকে দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত নতুন লাইন ও কংক্রিট স্লিপার স্থাপন করা হলেও এখনো কেন লাইন দুর্বল তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, আন্তঃনগর ট্রেনের প্রথম শ্রেণির কোচসহ বিভিন্ন বগির টয়লেট দীর্ঘদিন ধরে অচল। অনেক কোচে প্রয়োজনীয় আলোর ব্যবস্থাও নেই। কমিউটার ট্রেনে টয়লেট থাকলেও পানির সংকট রয়েছে।
এছাড়া ট্রেনে হকার ও ভিক্ষুকদের উৎপাত নিত্যদিনের ঘটনা। কিছু ক্ষেত্রে হিজড়াদের দ্বারা যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। ট্রেনের খাবারেও মানহীন ও পচা খাবার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
নিরাপত্তাহীনতাও বড় উদ্বেগের বিষয়। যাত্রীদের অভিযোগ, কমলাপুর থেকে ময়মনসিংহ রুটে ছিনতাইকারী ও অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য রয়েছে। ট্রেনের ছাদে যাতায়াতকারীরা প্রায়ই ডাকাতির শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় লাশও উদ্ধার করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
রেলওয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এ রুটে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার যাত্রী চলাচল করেন।
ইসলামপুর বাজার স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহিন মিয়া বলেন, “বর্তমানে এ রুটে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও কমিউটার ট্রেন চলাচল করছে। যাত্রীচাপের কারণে ভোগান্তি বাড়ছে। নতুন দুইটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হলে যেমন যাত্রীসেবা বাড়বে, তেমনি সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে।”