স্থানীয়দের মতে, “দেবদূতের মতো আগমন” ঘটেছিল এই কর্মকর্তার, যিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বালু পাচার রোধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে তার কঠোর অবস্থান সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।
এছাড়া এতিমখানা, আশ্রয়ণ প্রকল্প ও বৃদ্ধাশ্রমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দুঃস্থদের সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ তাকে জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত করে।
নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের নির্বাচনী কার্যক্রমে তার দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার তাকে দক্ষ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে সম্মাননা প্রদান করেন।
জানা যায়, বিদায়ী ইউএনও ২০১০ সালে চ্যানেল আই-লাক্স সুপারস্টারএ অংশ নিয়ে সেরা দশে স্থান অর্জন করেন।
সুশীল সমাজের মতে, তিনি ছিলেন একজন সহজ-সরল, দায়িত্বশীল ও মানবিক কর্মকর্তা, যিনি সবসময় মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন এবং সমস্যার সমাধানে আন্তরিক ছিলেন। তার বিদায়ে উপজেলা প্রশাসনসহ পুরো এলাকায় এক ধরনের আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মী নাজমুল হোসাইন বলেন, “তিনি ছিলেন আলোকিত ইউএনও। কোনো দম্ভ ছিল না, তার কার্যালয় ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। নিয়মের মধ্যে থেকে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন মানুষের সমস্যা সমাধানে।”
বিদায়ী ইউএনও তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, তিনি সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছেন এবং উপজেলাবাসীর সহযোগিতা ও ভালোবাসার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন। প্রায় চার মাস দায়িত্ব পালনের পর তাকে বদলি করা হয়। তার নতুন কর্মস্থল হিসেবে ঢাকা বিভাগ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে নবাগত ইউএনও হিসেবে যোগদান করেছেন আরিফুর রহমান।