শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে টেকনিশিয়ানের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে এক্স-রে মেশিন। যার ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত রোগীরা। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও নেই তার চালক! তাই অ্যাম্বুলেন্সটিও নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে গ্যারেজে। এতে করে জরুরি রোগী ঢাকায় নিতে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে এবং উচ্চ মূল্যে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হচ্ছে রোগীদের। মাঝে মাঝে অ্যাম্বুলেন্স আসতে আসতে রোগী মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
অন্যদিকে হাসপাতালটির পুরাতন ভবনের বিভিন্ন স্থানে খসে পড়ছে পলেস্তারা। উপজেলা থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক চাহিদা দেওয়া হলেও ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত এর সমাধান চান সেবাপ্রত্যাশীরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ১৯৭২ সালে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করে সরকার। এরপর ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালের একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। ১৯ শয্যার একটি নতুন তিনতলা আধুনিক ভবন যুক্ত করে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।
কিন্তু এখানে ইসিজি মেশিন নষ্ট, পালস অক্সিমিটার নেই, আবাসন সংকট রয়েছে, এক্স-রে টেকনিশিয়ান নেই, সার্জারি চিকিৎসক নেই এবং জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়ার মেশিনও নেই।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয়শ রোগী এখানে সেবা নিতে আসেন। ২০১৭ সালে হাসপাতালের পুরাতন ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে গণপূর্ত বিভাগ। স্বাস্থ্য পরিদর্শকের কক্ষের ছাদ এবং জরুরি বিভাগের একটি কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। রুমটি বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া হাসপাতালের পিলারসহ নানা জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এখানেই চলছে চিকিৎসাসেবা।
অপারেশন থিয়েটারের জন্য নির্ধারিত সার্জারি চিকিৎসক না থাকায় ক্রয়কৃত ৩০ লাখ টাকার যন্ত্রপাতির বেশিরভাগই নষ্ট হওয়ার পথে। হাসপাতালটিতে শুধু সিজারিয়ান অপারেশন চালু রয়েছে, তবে অ্যানেস্থেশিয়া মেশিন নষ্ট থাকায় সেই কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
সংকট রয়েছে অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরও। এক্স-রে মেশিন থাকলেও আবাসিক পদে এক্স-রে টেকনিশিয়ান বা সার্জারি চিকিৎসক না থাকায় অপারেশন থিয়েটার চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বেসরকারি ক্লিনিকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে এক্স-রে সহ নানা অপারেশন করাতে হচ্ছে রোগীদের।
এদিকে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় হাসপাতালটিতে সেবা নিতে আসা মুমূর্ষু রোগীদের ভোগান্তির শেষ নেই। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রোগী পরিবহনে দুর্ভোগের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের।
২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে ডিএমখালি থেকে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজতে এসে আহত রোগীর ভাই জানতে পারেন, অ্যাম্বুলেন্সটির ড্রাইভার নেই। পরে বেসরকারি একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে আহতের পরিবারের সদস্যরা। অ্যাম্বুলেন্সটি ভেদরগঞ্জ থেকে কয়েক কিলোমিটার যাওয়ার পর আহতের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঢাকায় নেওয়ার পর আহত রোমান মাল (২২) মারা যায়।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নাইম মো. ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, আমাদের হাসপাতালের পুরাতন ভবনের বিভিন্ন কক্ষে ছাদে ফাটল ধরেছে। অধিদপ্তরে এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছি। পাশাপাশি অ্যানেস্থেশিয়া মেশিন নষ্ট, অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট, চালক নেই এবং এক্স-রে মেশিন অকেজো ও টেকনিশিয়ান নেই—এসব বিষয়ও কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। আশা করি দ্রুত বরাদ্দ পেলে ভোগান্তি কমবে।