রংপুর সদরে এক কিলোমিটার সড়ক কাঁচা, বর্ষায় চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

বুলেটিন ডেস্ক

সারাবাংলা

রংপুর সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এক কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা অবস্থায় থাকায় বর্ষাকালে হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

2026-04-07T10:46:24+00:00
2026-04-07T10:46:24+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
রংপুর সদরে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখনো কাঁচা, বর্ষায় ভোগান্তিতে মানুষ
বুলেটিন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪৬ এএম   (ভিজিট : ৩৫৯)
বর্ষায় কাঁচা রাস্তায় ভোগান্তিতে মানুষ
X

বর্ষায় কাঁচা রাস্তায় ভোগান্তিতে মানুষ

রংপুর সদর উপজেলার ২ নম্বর হরিদেবপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর পশ্চিমপাড়ার হরকলির হাট মোড় থেকে প্রস্তাবিত মহাদেবপুর ওয়াক্তিয়া মসজিদ হয়ে চওড়া পাড়া মোড় ও হিন্দু পাড়ার মোড় পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় সহ আশপাশের কয়েক হাজার মানুষ। দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও শুক্রবার বসা হরকলির হাটকে কেন্দ্র করে এ সড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ত থাকে। আশপাশের একাধিক গ্রামের হাজারো মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করে হাটে যাতায়াত করেন। পাশাপাশি প্রতিদিন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি প্রধান চলাচলের পথ।

পাগলাপীর ও রংপুর শহর কেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির দুই প্রান্তে দুটি হাইওয়ে সড়ক থাকায় কোনো দুর্ঘটনা, যানজট বা জরুরি পরিস্থিতিতে এটি বিকল্প সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কিন্তু সড়কটি পাকা না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদায় ডুবে গিয়ে চলাচলের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়ে। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কাদামাটির কারণে প্রায়ই রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ ও রোগীদের চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের বাইরে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এলাকাটি দুটি ইউনিয়নের চারটি গ্রামের সংযোগস্থলে হওয়ায় উন্নয়ন পরিকল্পনায় বারবার উপেক্ষিত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা প্রবাসী সাংবাদিক নওশের আলম সুমন বলেন, আমি এই এলাকায় জমি কিনে বসবাস শুরু করার পর থেকেই দেখছি, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে আমি বিভিন্ন সময় আমি নিজেই এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ করেছি। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি স্থানীয় এমপি, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের কাছেও বিষয়টি বারবার তুলে ধরেছি। উপজেলা কর্মকর্তাদের সাথেও সরাসরি যোগাযোগ করে সড়কটির একটি কোড তৈরি করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাদের কাছে হস্তান্তর করেছি। তারা সবাই উন্নয়নের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন খুব সীমিত। সড়কের দুই পাশের কিছু অংশে আংশিক কাজ হলেও পুরো সড়কটি এখনো কাঁচা রয়ে গেছে। ফলে সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

এই সড়কটি শুধু একটি গ্রামের নয়, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জরুরি সেবা সবকিছুর জন্য মানুষ এই রাস্তাটির উপর নির্ভরশীল। তাই আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত পুরো সড়কটি পাকাকরণ করে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটানো হোক।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা শামসুল হক বলেন, এটি আমাদের জন্য জীবনযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠে। রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হয়। দ্রুত সড়কটি পাকাকরণ না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজালাল লিটন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের কষ্ট ভোগ করছি। বর্ষা মৌসুম এলেই আমাদের চলাচল একপ্রকার বন্ধ হয়ে যায়। ছোট ছোট বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারে না, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বহুবার জনপ্রতিনিধিদের কাছে বলা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। আমরা আর আশ্বাস চাই না, দ্রুত কাজ শুরু দেখতে চাই।

এদিকে, এলাকাবাসী জানান, সড়কটি উন্নয়ন হলে স্থানীয় অর্থনীতি, শিক্ষা কার্যক্রম ও জরুরি সেবা ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। হাটকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য আরও প্রসারিত হবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে।

অতিদ্রুত সড়কটির পাকাকরণের জন্য রংপুর সদর ইউএনও, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

তাদের দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘবে এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে এই সড়কটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।




  বিষয়:   রংপুর  সড়ক সমস্যা  এলজিইডি  গ্রামীণ উন্নয়ন  হরিদেবপুর ইউনিয়ন  জনদুর্ভোগ 



Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy