প্রকাশ: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৩ পিএম (ভিজিট : ২০)

X
কেন্দুয়ার মহান মুক্তিযুদ্ধের বধ্যভূমি ও গণহত্যার স্বাক্ষী স্মৃতিফলক ‘চিরঞ্জীব’
নেত্রকোণার কেন্দুয়া সদরের ভূমি অফিস সংলগ্ন রাজি নদীর তীরে অবস্থিত মহান মুক্তিযুদ্ধের বধ্যভূমির স্মৃতিফলক ‘চিরঞ্জীব’ থেকে সাদা স্লেটটি উধাও হয়ে গেছে। এতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংবলিত অংশটি আর দৃশ্যমান নেই।
গত ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বিষয়টি প্রথমে নজরে আসে গণমাধ্যমকর্মীদের। পরে ৭ এপ্রিল সরেজমিনে গিয়েও স্লেটটি কখন এবং কীভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে—তার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের মতে, নতুন প্রজন্মের কাছে ১৯৭১ সালের গণহত্যার ইতিহাস তুলে ধরতে এই স্মৃতিফলকটির গুরুত্ব অপরিসীম। দ্রুত স্লেটটি পুনঃস্থাপন না করলে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে এই বধ্যভূমিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, আলবদর ও রাজাকারদের হাতে অসংখ্য নিরীহ মানুষ নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন। এছাড়া ধোপাগাতি গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান মাস্টারের বাড়ির সামনে এবং মাসকা ইউনিয়নের ঘোড়াইল গ্রামেও আরও দুটি বধ্যভূমি রয়েছে, যা এখনো সেই নৃশংসতার সাক্ষ্য বহন করছে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক মো. নূরুল হক ভূঞাসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, এসব বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল ইসলাম বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন বা পুরনো স্থাপনাগুলো সংস্কারের জন্য বর্তমানে কোনো প্রকল্প নেই। তবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, মহান স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কেন্দুয়া উপজেলার তিনটি চিহ্নিত বধ্যভূমিতে ‘চিরঞ্জীব’ নামের স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়। এতে উপজেলা প্রশাসন, কেন্দুয়া এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, ঢাকা যৌথভাবে কাজ করে।