
X
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিট্কা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
শিক্ষার্থীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিট্কা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক মো. পারভেজ মোল্লাকে এক মাসের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষার্থীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় তাকে সংশোধনের জন্য বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) দ্বিজেন্দ্র নাথ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রধান শিক্ষক জানান, মো. পারভেজ মোল্লার সঙ্গে এক শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। ওই মেয়েটি তার কাছে প্রাইভেট পড়তো। মেয়েটি এখন ওই শিক্ষককে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও সুনাম রক্ষার স্বার্থে তাকে সাময়িকভাবে এক মাসের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। তাকে সংশোধনের জন্য এটি করা হয়েছে, যাতে এ ধরনের ব্যক্তিগত বিষয় ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, বাবা-মায়ের পরেই একজন শিশুর জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হলেন স্কুলের শিক্ষক। কিন্তু সেই শিক্ষকই যদি এমন অনৈতিক কাজে জড়িত হন, তাহলে আমরা অভিভাবকরা আমাদের সন্তানদের কীভাবে সুশিক্ষা দেবো? কিছুদিন আগেও এই স্কুলে এমন ঘটনার কথা শোনা গিয়েছিল, আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। তাই দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি দেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত খণ্ডকালীন শিক্ষক মো. পারভেজ মোল্লা বলেন, ওই শিক্ষার্থী আমাকে ব্ল্যাকমেইল করেছে। তার কয়েকজন বান্ধবীরা মিলে আমাকে নানা সময় বিভিন্ন হুমকিও দিয়েছে। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।
এ বিষয়ে হরিরামপুর টিচিং ডেভলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জমাত আলী বলেন, বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ইতোপূর্বেও কয়েকটি এ রকম ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সত্যিই দুঃখজনক। এ বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সতর্ক করা হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হানিফা বলেন, বিষয়টা বিদ্যালয় থেকে আমাকে জানায়নি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে কি ব্যবস্থা নিয়েছে এটার আপডেট নিবো।
এর আগে গতবছরের ১৩ সেপ্টেম্বর নিজের কোচিং সেন্টারে এক শিক্ষার্থীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েন আরেক খণ্ডকালীন শিক্ষক শহীদুল ইসলাম। এ ঘটনায় তাকে দুই মাসের জন্য বরখাস্ত করা হয়। দুই মাস পরে তিনি আবার বিদ্যালয়ে কাজে যোগ দিয়েছেন।
তবে, এরকম ঘটনায় কঠোর শাস্তি না হওয়ায় পুনরায় এমন ঘটনা ঘটার সুযোগ সৃষ্টি হয় বলে মনে করেন সচেতন অভিভাবকরা। এমন ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তাদের।