
X
চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেছেন, আমার ফাস্ট প্রায়োরিটি শিক্ষা এবং মাদকের গ্রাস থেকে সমাজকে মুক্ত করা। তবে এগুলো এককভাবে করা সম্ভব নয়। এ জন্য শিক্ষক-অভিভাবকসহ সমাজের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলার উপজেলার সকল প্রকার কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ব্যবসায়ী, ধর্মীয় নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, আগামী ৬ মাসের মধ্যে উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ে পানির ফিল্টার সরবরাহ করতে হবে এবং এ কার্যক্রম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তদারকি করবেন। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, কলেজ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি ও পড়াশোনার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে পরবর্তীতে জীবননগরে এসে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন।
তেলের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, কৃষকদের তেল সংগ্রহের জন্য প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। তবে কেউ যেন এ কারণে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে। সাংবাদিকদের জন্য নির্দিষ্ট একটি পাম্প থেকে তেল সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রেসক্লাব থেকে তালিকা ইউএনওর কাছে প্রদান করতে হবে।
তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর তেল ১০ থেকে ২০ শতাংশ বেশি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তেল অবৈধভাবে মজুত করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চিকিৎসা খাত নিয়ে নবাগত জেলা প্রশাসক বলেন, চুয়াডাঙ্গার প্রায় সব হাসপাতালেই একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে জুনিয়র কনসালট্যান্টের সংকট রয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া বিল ও পাখি সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং খাল-বিলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর মধ্যে বৃক্ষরোপণ অন্যতম। ট্রেন স্টেশন চালুর বিষয়েও তিনি আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার জসিম উদ্দিন, জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জুয়েল শেখ এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান, দলিল উদ্দীন দলু, জীবননগর পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবীর, উপজেলা বিএনপির শাহজাহান আলী, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েব আমির সাখাওয়াত হোসেন, সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) শফিউদ্দিন শফি, জীবননগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ফয়সাল মাহাতাব মানিক, সাধারণ সম্পাদক মো. রিপন হোসেন প্রমুখ।