
X
দুইদিনে সংসদে ৪১ বিল পাশ
বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যেই দুই দিনে মোট ৪১টি বিল পাশ করে নতুন ইতিহাস গড়েছে জাতীয় সংসদ। এর মধ্যে একদিনেই সর্বোচ্চ ৩১টি বিল পাশের নজির স্থাপন করা হয়েছে, যা দেশের সংসদীয় ইতিহাসে রেকর্ড।
গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১তম কার্যদিবসে কণ্ঠভোটে ৩১টি বিল পাশ হয়। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ থেকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই ২৮টি বিল পাশ করা হয় এবং অধ্যাদেশ রহিত করে আরও তিনটি বিল অনুমোদন দেওয়া হয়।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল-২০২৬’ উত্থাপন করা হলে বিরোধী দল এর বিরোধিতা করে। তবে শেষ পর্যন্ত কণ্ঠভোটে বিলটি পাশ হয়।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদ থেকে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, বিরোধী দলের যৌক্তিক বাধা স্বত্তেও যে কয়টি গণবিরোধী বিল আজকে পাস হয়েছে, আমরা তার দায় নিতে চাই না। এ কারণে আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি।
এর আগে, আলোচনাকালে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বিলটির বিরোধিতা করে বলেন, আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সরিয়ে দিয়ে সেখানে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের বসানোর কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু এখন সেটাই করা হচ্ছে। নির্বাচন না দিয়ে দলীয় লোকজন দিয়ে স্থানীয় সরকার পরিচালনা করা হচ্ছে।
জবাবে বিলটি উত্থাপনকারী স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এই আইন সংশোধন করা না হলে ফ্যাসিস্ট শক্তি ফিরে আসার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি এই সংশোধনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। বর্তমান সরকার দ্রুত নির্বাচনও দিয়ে দেবে।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের ওয়াকআউটের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, আমি ধন্যবাদ জানানোর জন্য উঠছি। আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ফাস্ট রিডিং, সেকেন্ড রিডিং, থার্ড রিডিং, সব রিডিংয়ে উনারা সহায়তা করেছেন। কেউ কেউ হাত তুলে সমর্থনও দিয়েছেন। সমস্ত প্রক্রিয়া অংশ নেওয়ার পরে ওয়াকআউটের কোনো মানে আছে কি না, এটা জানার জন্য। সমস্ত প্রক্রিয়া তারা অংশ নিয়েছেন এ জন্য ধন্যবাদ।
আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) অধিবেশনের ১৩তম কার্যদিবসে আরও ১০টি বিল পাশ হয়। সকালে উত্থাপিত এসব বিলের ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় আলোচনা ছাড়াই সর্বসম্মতিক্রমে সেগুলো পাশ করা হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংসদের বিশেষ কমিটি জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিতভাবে এবং ১৫টি সংশোধনসহ পাশের সুপারিশ করা হয়েছে। বাকি ২০টির মধ্যে চারটি বাতিল এবং ১৬টি নতুনভাবে শক্তিশালী করে বিল আকারে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।