প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম (ভিজিট : ১২৫)

X
শান্তিরবাজার খেয়া ঘাট
একটি ব্রিজের জন্য খেয়া পারাপারে বিড়ম্বনা আর কস্ট ভোগ করা এলাকাবাসীর আক্ষেপটা শেষ পর্যন্ত থেকেই গেল। খেয়া পারাপারে মাঝিদের ইচ্ছে মত ঘাটে থাকা না থাকা, মেঘলা দিনে ঘাটে সময় মত খেয়া না পাওয়া, স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া পারাপার হওয়া ইত্যাদী হাজারো কস্ট ভোগী এলাকাবাসির একটিই চাওয়া ছিল খেয়ার স্থলে মেঘনার এ শাখা নদীর ওপর শান্তিরবাজার এলাকায় একটি পাকা ব্রিজ। কিন্তু বিগত সরকারের দেশ চালানোর ১৬ টি বছর তারা শুনেছে শুধু আশার বাণী। নদীর জায়গায় নদী আর খেয়ার জায়গায় খেয়া, এলাকাবাসীর কস্টটা সেই আগের মতই রয়ে গেল। ব্রিজ আর নির্মাণ করা হলোনা।
শান্তির বাজারের এ খেয়া ঘাটটির অবস্থান নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার উচিৎপুরা ও খাগকান্দা ইউনিয়নের সীমানাবর্তী এলাকা। নদীর পশ্চিম পাড়ে উিচৎপুরা ইউনিয়নের বাড়ৈপাড়া শান্তির বাজার আর পূর্ব পাড়ে রয়েছে খাগকান্দা ইউনিয়নের বাহেরছড়া নয়নাবাদ। পশ্চিম এলাকা থেকে শতশত ছাত্র ছাত্রী পূর্ব পাড়ে অব্স্থিত তেতইতলা কবি নজরুল স্কুল এন্ড কলেজ এবং শম্ভুপুরা স্কুলে যাতায়াত করে থাকে। তারা স্কুলে যাতায়াতের জন্য সময় মত খেয়া না পাওয়ার মত অভিযোগ তুলেছে। তা ছাড়া, নদীতে শুধু মত্র একটি বা কখনো কখনো দুটি মাত্র খেয়ার থাকায় স্কুল ও কলেজে সময় মত পৌঁছাতে অধিক যাত্রীর সাথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া পারাপার হয়ে থাকে। বিশেষ করে বৃদ্ধ, মহিলা এবং স্কুল ও কলেজগামী ছাত্র ছাত্রীরা এ সময় ভীত সন্ত্রস্ত থাকে।
শান্তির বাজার একটি প্রসিদ্ধ বাজার। এখানে সাপ্তাহিক হাট ও বসে। বাজারটি কৃষি পণ্য ক্রয় বিক্রয়ের জন্য বিশেষ ভাবে পরিচিত। তা ছাড়া, বাজারটি আড়াইহাজার এবং সোনারগাঁও উপজেলার সীমানাবর্তী এলাকায় হওয়ায় দুটি উপজেলার মানুষই এ বাজারে নানা রকম পণ্যাদী ক্রয় বিক্রয় করে থাকে। নদীর পূর্ব তীরে রয়েছে খুব কাছাকাছি আরো ২/৩ টি বাজার। হাট বাজারে কেনা বেচা করার জন্য নদীর উভয় পারের মানুষ সব গুলো হাট বাজারে খেয়ার মাধ্যমে পারাপার হয়ে এপার ওপার যাতায়াত করে থাকে।
নদীর পূর্ব পারের মানুষের অভিযোগ, আমরা আড়াইহাজার সোনারগাঁও সহ ঢাকা নারায়ণগঞ্জ থেকে আসতে গিয়ে রাত বেশি হলে ঘাটে খেয়া পাইনা। ফলে অনেক সময় আমাদেরকে বাধ্য হয়ে এপারেই থাকতে হয় এমনকি পরিস্থিতির কারণে মসজিদে পর্যন্ত রাত কাটাতে হয়।পরদিন সকালে খেয়া আসলে বাড়ীতে যেতে হয়েছে এমন ঘটনা ঘটে থাকে প্রায়ই।
নদীর পশ্চিম পাড়ের মানুষ বলে, আমরা ওপারে হাট বাজার করতে গেলে অনেক সময় রাত বেশি হলে বা বৃষ্টি বাদল থাকলে আমরা আর এ পাড়ে আসতে পারিনা। এমন অবস্থায় এখানে নদীর ওপরে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের দাবী ছিল এলাকার ভুক্তভোগী মানুষের।
এলাকার বাসিন্দা মোঃ মেোসলেহউদ্দিন সহ বেশ কয়েকজন জানান, ১৬ বছরে তৎকালিন এমপি নজরুল ইসলাম বাবু একাধিক বার এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত তা আর না হওয়ায় আমরা সেই সমস্যাতেই পড়ে রইলাম।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য কথা বলার জন্য চেষ্টা করা হলে খাগকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম ও উচিৎপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইসমাইল ভূঁইয়া রাজনৈতিক পট পরিবর্তণের কারণে দুজনেই এলাকায় না থাকায় কারো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।